সন্দ্বীপ- চট্টগ্রাম নৌরুট : অবৈধ নৌযানের দাপটে কোনঠাসা বিআইডাব্লি্উটিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্লাষ্টিকের স্প্রীডবোট ও কাঠের তৈরী বড় নৌকায় সাগর পাড়ি দিচ্ছে চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের কয়েক লাখ মানুষ।স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করছেন না তারা। সরকার অনুমোদিত বিআইডব্লিউটিসির সী-ট্রাক পর্যাপ্ত না হওয়ার সুযোগে ঘাটে জেলা পরিষদের ইজাদাররা অবৈধ এসব নৌযানে যাত্রী পরিবহন করছে অবাধে। যাত্রীরা বলছেন বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তাদের। আর সী-ট্রাকের পরিচালক বললেন প্লাস্টিকের বোর্ডগুলো কিভাবে চলে জানা নেই তার।সরেজমিনে গিয়ে দেখো গেছে অবৈধ নৌযানের দাপটে অসহায় বৈধ নৌযানের পরিচালনাকারী বিআইডাব্লিটিসি।

রবিবার সকালের কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট। ভোরের সুর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষের ভিড়। তারা সবাই উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাবেন বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপে। এখন অপেক্ষা একটি টিকিটের। সরকার অনুমোদিত একমাত্র সী-ট্রাকটির ধারণক্ষমতা দু’শো। তাও আবার সময় বেঁধে চলাচল করে। তাই ফিটনেস বিহিন সমুদ্রে চলাচলের অযোগ্য স্পীড বোট, ও প্লাস্টিকের নৌকায় একমাত্র ভরসা ঈদে প্রিয়জনদের সঙ্গ পাবার প্রত্যাশায় থাকা মানুষগুলোর।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের অন্তত দশ লাখ মানুষের মূল-ভূখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান পথ এই কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট। তাই যাত্রী পরিবহনের দিক থেকেও বন্দর নগরীর সব থেকে বড় ও প্রধান নৌ-পথ এটি। কিন্তু সবচেয়ে অবহেলিত।

বিআইডব্লিউটিসির পর্যাপ্ত সী-ট্রাক না থাকায় ঝুঁকিপুর্ণ অবৈধ নৌযানগুলো চলছে অবাধে। ঈদযাত্রায় টিকিট কাউন্টারও খুলেছে তারা।স্পিডবোট পরিচালকরা বলছেন যাত্রীদের চাপেই বোট চালাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্পিড বোট কাউন্টারের একজন স্টাফ মোহাম্মদ সুজন জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের হয়ে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করছেন তারা।এই ঘাটে অন্য যে কোন নৌযানের চেয়েও যাত্রীরা স্পীড বোট বেশি পছন্দ করছেন, সেই জন্য বাধ্য হয়ে এটা চালাতে হচ্ছে।

এদিকে বিআইডাব্লিটিসি’র সী-ট্রাকের পরিচালক ইকরাম উদ্দিন ফরহাদ বলেছেন, অনুমোদন না থাকার পরও কিভাবে এসব অবৈধ নৌযান চলছে তা বোধগম্য নয়।

ইকরাম ফরহাদ জানান, প্রশাসনের বেধে দেয়া শিডিউল অনুযায়ী বিআইডাব্লিটিসির সীট্রাক এসটি ছালাম কুমিরা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা সকাল সাড়ে আটটায়, এবং জেলা পরিষদের ইজারাদার পরিচালিত জাহাজ বেক্রুজ ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেয়া আছে বেলা সাড়ে এগারোটায়, কিন্তু অবৈধ ভাবে এই জাহাজটি অনেকটা গায়ের জোরে শিডিউল ভঙ্গ করে সকাল সাতটায় ছেড়ে গেছে।

বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু এতে বিআইডাব্লিটিসির জাহাজ পরিচালক হিসেবে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ইকরাম ফরহাদ আরো জানান, এসটি ছালাম ছাড়ার আগে সব ধরনের নৌযানে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ আছে প্রশাসনের, কিন্তু অবৈধ নৌযানের মালিকরা এসব নির্দেশনা মানছেনা।

ফরহাদ আরো বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বিআইডাব্লিটিসির আরো একটি জাহাজ এলসিটি কাজলের এই রুটে আসার কথা থাকলেও সেটির মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় তা এখানে আসেনি।

গেল এপ্রিলে এখানেই লাল রংয়ের এই প্লাস্টিক বোটগুলোর একটি ডুবে ১৮ জনের সলিল সমাধি হয়। এছাড়া ছোটবড় দুর্ঘটনা তো নিত্যসঙ্গী। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-রুটটিতে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ পর্যাপ্ত সী-ট্রাক নামানোর দীর্ঘদিনের দাবি অসহায় সন্দ্বীপবাসীর।

এসএন।