ভারতীয় নৌবাহিনীর উদ্ধার করা ৩৩জেলে ফিরেছে

চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরে উপকূলের এক‘শ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতীয নৌবাহিনীর জাহাজ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া ৩৩জন নাবিককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতীয জাহাজ আইএনএস সুমিত্রা এসব জেলেকে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এসব জেলেদের নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে বিএনএস সুমিত্রা।

সুমিত্রা জাহাজের অধিনায়তক এসপি শ্রীনান জানান, সমুদ্রে একটি গাছ ধরে কয়েকজন মানুষ ভাসছে দেখে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি, পরে ওই এলাকায় আরো কয়েকজনকে ভাসতে ধেকে তাদেরকেও উদ্ধার করি, এর মধ্যে একজন মারা গেছে, তাকে অনেক চেষ্টা করেও বাচানো যায়নি।

জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুটি মাছ ধরার ট্রলারের। ঘূর্ণিঝড় মোড়ার সংবাদ পেয়ে তারা কূলে ফেরার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ঢেউের তোড়ে ভেসে যান।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা তাদের সমুদ্রে পড়ে যাওয়া ও ভারতীয় জাহাজ কর্তৃক উদ্ধার হওয়ার বর্নণা দেন সাংবাদিকদের কাছে। এসময় তারা বলেন, ভারতীয় জাহাজটি পৌছাতে ে১০/২০মিনিট দেরী করলে হয়তো তাদেরকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হতোনা।

খায়রুল নামের উদ্ধার হওয়া এক জেলে জানান, ঘুর্ণিঝড়ের সংবাদ; পেয়ে কুরৈ ফিরে আসার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু ডেউ এর তোড়ে নৌকা উল্টে যায়, অনেক ক্ষন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হয়।

বাংলাদেশের প্রয়োজনে ত্রাণ সাহায্য নিয়ে আসতে আরও কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে ভারতীয় জাহাজে নিয়ে আসা ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।

সকাল ৭টার দিকে ত্রাণ সামগ্রী ও গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা ৩৩ বাংলাদেশি জেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে নোঙর করে ভারতীয় জাহাজ ‘আইএনএস সুমিত্রা’।

শ্রিংলা বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরায় নিহতের ঘটনায় আমরা শোক জানাচ্ছি। আইএনএস সুমিত্রা প্যাকেটজাত খাবার, তাবু, কাপড়চোপড় ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ চট্টগ্রাম এসেছে।

“আমরা অন্য জাহাজগুলোকে প্রস্তত রেখেছি, যাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ বাংলাদেশের যে কোনো প্রয়োজনে কাজে আসতে পারে।”

সকালে আইএনএস সুমিত্রা নোঙর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জাহাজটিতে থাকা ত্রাণসামগ্রী এখানে খালাস হবে। যদি বাংলাদেশের আরও সাহায্য লাগে সেটা আমরা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।”

বন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের মানুষকে যে কোনো প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করতে পাশে থাকবে বলে তিনি জানান।

“এ সাইক্লোনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারত। সরকার যথাযথ পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ায় সেটা হয়নি।”

আইএনএস সুমিত্রা বাংলাদেশের আসার পথে ৩৩ জনকে উদ্ধার করেছে। তারা সবাই মহেশখালী উপজেলার।

ত্রাণ তৎপরতায় সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ নেভি, জেলা প্রশাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় এ কূটনীতিক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও আইএনএস সুমিত্রা’র কমান্ডিং অফিসার পি কে শ্রিনান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান বাংলাদেমঅ জেলেদের উদ্ধার ও ত্রান নিয়ে আসার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ দেন।