হ্যারিকেনের শক্তি নিয়ে আঘাত হানছে ‘মোরা’

চট্টগ্রাম অফিস: ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে সোমবার চট্টগ্রামে সকাল থেকে মেঘলা আকাশের ঘোমট আবহাওয়া বিরাজ করছে। দুপুরের দিকে কোন কোন এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে হ্যারিকেনের তীব্রতা সম্পন্ন ক্যাটাগরির -২ এর এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম- কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট তাইফুন সেন্টারের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় দশ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় মোরা’র অাঘাত হানার সময় উপকূলীয় এলাকায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ধমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে স্বাভাবিকের চেয়েও ৪/৫ফুট উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে উপকূল। উপকূলীয় এলাকা অতিক্রমের সময় ভারী বর্ষন হবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি দুপুর বারোটার দিকে, চট্টগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার দক্ষিন, দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থান করছিলো। এটি ক্রমশ: উত্তর, উত্তর পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বরাবর অগ্রসর হচ্ছে। এটি র অগ্রভাগে  বাতাসের গতি অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকলেও পেছনের অংশ ক্রমান্বয়ে শক্তি সঞ্চয় করে অগ্রসর হচ্ছে। চূড়ান্ত আঘাতের সময় এটি ক্যাটাগরি- ১ হ্যারিকেনে রুপ নিতে পারে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে।

ঘূর্নিঝড় মোড়া আঘাত হানবেই এটা নিশ্চিত ধরে চট্টগ্রামে এর মোকাবেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি সমন্বয় সভা। এই সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও রেডক্রস, রেডক্রিসেন্ট বিভিন্ন এনজিও, সরকারি বেসরকারি দপ্তর ও সিভিল সার্জন কাযালয়ের কর্মকর্তারা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৪৭৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে, এগুলোতে মোট পাচ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে। এইসব আশ্রয় কেন্দ্র ইতোমধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে। চাইলে যে কেউ এখুনি আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান জানান, চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার জন্য পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী ও ঔষধ মজুত আছে, এসব ত্রান সামগ্রী ও ঔষধ উপক’লীয় এলাকায় পৌছানো শুরু হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় বিপদ সংকেত ঘোষণা করে মাইকিং করা হচ্ছে যাতে সবাই সময় মত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে চলে আসে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়েও থেকে ৫ফিট উচ্ছতার জলোচ্ছাস এবং ভারী বর্ষণের আশংকার কথা জানানো হচ্ছে উপকূলবাসীকে।

এদিকে, চট্টগ্রামের উপক’লীয উপজেলা সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাশঁখালীর স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিগত ঘূর্ণিঝড়গুলোতে যে সব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে সেইসব এলাকায় মোকাবেলার প্রস্তুতিতে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

জাতীয দূর্যোগ মোকাবেলা নীতিমালা অধীনে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা পুরোপুরি বাস্তাবায়ন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা গোলাম জাকারিয়া বলেছেন, সন্দ্বীপের দুই’শ সাইক্লোন সেল্টার ঘুর্ণি দুর্গতদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, রেডক্রিসেন্টের দুই হাজার স্বেচ্চাসেবকও প্রস্তুত আছে। সন্দ্বীপের বেশ কিছু এলাকায় বেড়ী বাধ ক্ষতিগ্রস্ত আছে, এসব এলাকায় মানুষ অন্য এলাকার চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে আছে।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকবেলায় ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠনের ঘোষনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন। এছাড়াও চট্টগ্রামে কর্মরত সকল চিকিৎসক ও নার্সদের সব ধরনের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে এই বৈঠকে।

সাত নাম্বার বিপদ সংকেত ঘোষণা করার পরপরই বন্দরের পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক প্রকার বন্ধই করে দেয়া হয়েছে জাহাজ চলাচল। কর্নফুলী নদীতে অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজগুলোকে বিশেষ বিশেষ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

উপকূলের কাছাকাছি বন্দরের বহি: নোঙ্গরে অবস্থান করা সমুদ্রগামী বড় জাহাজগুলোকে আরো গভীর সমুদ্রে দিকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী জাহাজগুলো গভীরসসমুদ্রে গিয়ে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানাগেছে।

এসএন।