“সরকারের গণমুখী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো, কিন্তু সন্দ্বীপের অস্তিত্ব বিকিয়ে নয়”

রাজিবুল আহসান সুমন। সন্দ্বীপের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। সেখানে গঠিত ‘সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি’র আহবায়ক তিনি। এই আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ‘সন্দ্বীপ’ কথা বলেছে তার সাথে। লিখিত কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি।
সন্দ্বীপ: সব ক’টি চর নোয়াখালীর মালিকানায় চলে যাবার পর এখন সরকারের একটি পদক্ষেপে এসে চরগুলোর মালিকানা দাবি করছেন কেনো?
রাজিবুল আহসান সুমন: এখনো কোন চর স্থায়ীভাবে নোয়াখালী জেলার হয়ে যায় নি। একতরফাভাবে কোন জেলা বা উপজেলা কোন ভূমি বা চরের মালিক হতে পারে না। ২০১৬ সালের ২রা মার্চ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাননীয় মন্ত্রী শামসুর রহমান ডিলু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মহাপরিচালক জরিপ অধিদপ্তর, মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক নোয়াখালীসহ অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১৯১৩-১৯১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলা ও নোয়াখালী জেলার সীমানা নির্ধারণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। যাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে জরিপ কাজ পরিচালনা ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসনকে সীমানা পিলারের খরচ বহনের নির্দেশনা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে তা সমাপ্ত করার জন্য বলা হয়েছিল।
কিন্তু, অজ্ঞাত কারণে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, সুধারামপুর, ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি করছি। সেটি হলে কোন অবস্থায় জাহাইজ্জার চর বা স্বর্নদ্বীপ, ঠ্যাংগারচর বা ন্যামস্তি, জাইল্লার চর কোনটি সন্দ্বীপ থেকে আলাদা করার কোন সুযোগ নেই।

সন্দ্বীপ: আপনারা যারা এখন আন্দোলন করছেন, বা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন তাদের কেউ কি এই চর জেগে ওঠা থেকে শুরু করে বসতি স্থাপনযোগ্য হবার পর পর্যন্ত সেখানে বাস্তুহারা সন্দ্বীপবাসীকে পুনর্বাসনের দাবি কখনো দিয়েছিলেন?
রাজিবুল আহসান সুমন: কেউ দাবি করেছে কিনা জানি না। তবে, এ চরগুলোয় এখনো স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযুক্ত হয়নি।

সন্দ্বীপ: কমিটিতে যারা আছেন, তাদের কেউ কি কখনো উরির চর, জাহাইজ্জার চর আর ঠ্যাংগার চর গেছেন? কে কে গেছেন?
রাজিবুল আহসান সুমন: আমাদের মধ্যে অনেকে এ সব চর ঘুরে এসেছেন সাংবাদিকসহ। আমরা ‘সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ আবারো অল্প সময়ের মধ্যে চর গুলি ঘুরে আসবো। চেষ্টা করছি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ যেতে।

সন্দ্বীপ: আন্দোলন নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি?
রাজিবুল আহসান সুমন: সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এখানে সব রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবি সংগঠন, নদী সিকস্তি, ছাত্র, ইউনিয়ন ভিত্তিক সচেতন লোক, অনলাইন এক্টিভিষ্ট, সাংবাদিকসহ সব মত ও পথের লোক আছে।

সন্দ্বীপ: ঢাকায়ও কমিটি হয়েছে। দুই কমিটির কাজে সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে বলছেন অনেকে। আপনি কিভাবে দেখছেন এ আশঙ্কাকে?
রাজিবুল আহসান সুমন: সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা। ১৯৫৪ সালে এটি নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত হয়। সন্দ্বীপের সীমানা মানে চট্টগ্রামের সীমানা। আর এই চট্টগ্রামের সীমানা নোয়াখালী জেলা কর্তৃক অন্যায়ভাবে দখল চক্রান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রামের সকল এমপি, মাননীয় মেয়র, সাবেক মেয়রসহ সবাইকে উদ্যোগী করার লক্ষ নিয়ে কাজ করছি আমরা। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সন্দ্বীপ তথা চট্টগ্রাম জেলা ও নোয়াখালী জেলার সীমানা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তরে স্মারকলিপি, চিঠিপত্র ইত্যাদি প্রদান করবো। সীমানা চিহ্নিত করার দাবিতে সর্বস্তরের সন্দ্বীপবাসীকে সাথে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।
ঢাকায় কেনো শুধু, আমরা তো চাই সুদূর আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ যেখানে যেখানে সন্দ্বীপবাসীরা অবস্থান করেন সব দেশে, সব জায়গায় কমিটি হোক। মাতৃভূমি সন্দ্বীপের সীমানা রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত সবার। আমাদেও সবার লক্ষ কিন্তু এক। সুতরাং, কমিটিগুলোর মধ্যে কোন সংঘাত হওয়ার আশংকা নেই।

সন্দ্বীপ: আপনারা সরকারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। পাশাপাশি, সরকারী দলের সাধারণ সম্পাদকের এলাকার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। এমন বৈরি পরিবেশে বাংলাদেশের বাস্তবতায় আপনাদের আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে সংশয় আছে অনেকের। আপনার?
রাজিবুল আহসান সুমন: কোন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়। মাতৃভুমির সীমানা রক্ষার্থে কোন রাজনীতি নয়। যতই বৈরি পরিবেশ হোক, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় কোন ক্ষমতাবান নেতা বাংলাদেশে নেই। আমরা মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সন্দ্বীপের মানুষের মতামতের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না।

সন্দ্বীপ: ঠ্যাংগার চরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন সমর্থন করেন? এ নিয়ে আপনাদের কোন প্রস্তাব আছে কি?
রাজিবুল আহসান সুমন: রোহিঙ্গা পুনর্বাসন নিয়ে আমরা এই মুহুর্তে কোন কথা বলতে চাই না। কারণ, আমরা আগে আমাদের সীমানা নির্ধারণ করতে চাই। চরে সন্দ্বীপের মালিকানা ফিরে পেতে চাই। সীমানা অনুযায়ী চরের মালিকানা ফিরে পাওয়ার পর আমরা সেই বিষয়ে আমাদের মতামত দেবো। আমাদের সন্দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ নিজের বাপ দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে এখনো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কথা মাথাই রাখতে হবে। তবে, রাষ্টের প্রয়োজনে সরকার যদি কোন জনকল্যাণমূখী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায় আমরা সন্দ্বীপবাসী, তা মেনে নিয়ে স্বাগত জানাবো। কিন্তু, আমাদের অস্তিত্ব-সমাজ-সংস্কৃতিতে আঘাত আসার মতো কোন সিদ্ধান্ত তো সন্দ্বীপবাসী মানবে না।
নিজেদের অস্তিত্ব বিকিয়ে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে দেবো না আমরা।