সন্দ্বীপের সীমানা রক্ষার দাবিতে নিউ ইয়র্কেও আন্দোলন

ব্রুকলিন (নিউ ইয়র্ক) প্রতিনিধিঃ সন্দ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলে মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা চরগুলোর মালিকানা ফিরে পেতে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা সন্দ্বীপীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। যেমনটা নিউ ইয়র্কে বসবাসরত সন্দ্বীপীরা। সন্দ্বীপ এডুকেশনাল এন্ড কালচারাল সোসাইটি, যুক্তরাষ্ট্র এখানে প্রবাসী সন্দ্বীপীদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে, ২৫ ফেব্রুয়ারি দলমত নির্বশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তাদের সবাই সন্দ্বীপের ভূমি অধিকার রক্ষার স্বার্থে প্রবাসী সন্দ্বীপীদের আন্দোলনের ওপর গুরুত্বরোপ করেন। জেগে ওঠা বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষার জন্য সব দল, মত আর পেশার সন্দ্বীপবাসীর সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ওপরও মত প্রকাশ করেন তারা। এর সূত্র ধরেই এখন এক কাতারে এসেছে নিউ ইয়র্কে ক্রিয়াশীল সন্দ্বীপের সব ক’িট সংগঠন।
সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন আর সন্দ্বীপ সোসাইটি মিলেছে এক মোহনায়। নিউ ইয়র্কে সন্দ্বীপবাসীর

র্কমকাণ্ডের ইতিহাসে এতো অভূতপূর্ব মিলনমেলা আর কখনো হয়নি বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রথম মত বিনিময়ের সূত্র ধরে বৈঠকের পর বৈঠক করে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনেছেন নেতারা। এরপর গঠিত হয়েছে উপদেষ্টা কমিটি। মধ্যিখানে দু’ একটি সংগঠনের নেতাদের মন ধরাধরি পুরো প্রক্রিয়াকে হুমকিগ্রস্ত করলেও এখন আপাত দৃষ্টিতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কাজ করার জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। পরামর্শ নেয়ার জন্যও গঠিত হয়েছে ৩১ সদস্যের কমিটি। এরই মধ্যে, সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটি নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন গত বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায়। শনিবার (১১ মার্চ) চার্চ-ম্যাকডোলাল্ড এভিনিউতে মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ঢাকা, চট্টগ্রাম আর সন্দ্বীপে আন্দোলন সংগ্রামে জড়িত কমিটিগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে নিউ ইয়র্কের কমিটির পক্ষ থেকে। বিএনপি-জামায়াত ঘরানার সংগঠন ‘সন্দ্বীপ এডকেশনাল ও কালচারার সোসাইটি এই আন্দোলন প্রতিবাদের উদ্যোক্তা হলেও এর সাথে তারা যোগ করতে পেরেছেন অন্য ঘরানাগুলোকেও।
এই আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের কর্মপন্থা আর উদ্দেশ্য নিয়ে এখানকার আওয়ামী লীগের একটি অংশের আপত্তি আর সন্দেহ আছে। সেই কারণে, তাদের কেউ কেউ এই কমিটির কোন কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
অন্যদিকে, উদ্যোক্তাদের কারো কারোর বিগত সময়ের ভূমিকা ও অবস্থান ধংসাত্মক ছিলো দাবি করে এই আন্দোলন-প্রতিবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন একটি পক্ষ। এমন সন্দেহ আর দুরে থাকার পরও বলা যায়, দলমত নির্বিশেষে প্রায় সবাই এক কাতারে সামিল হয়েছেন সন্দ্বীপের স্বার্থে।
সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন আর সন্দ্বীপ সোসাইটি- চরম বৈরি এই দুই সংগঠন যখন এক হতে পেরেছে, তখন বলা যায় এ আন্দোলনে সাফল্য আসবেই।