চর পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রীঃ সন্দ্বীপের সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ!

বিশেষ প্রতিনিধি: অবশেষে সন্দ্বীপের সীমানা নিয়ে বিরোধের অন্ধকার সুড়ঙ্গে আলোর দেখা মিলেছে। বিরোধ নিষ্পত্তির প্রাথমিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী যাচ্ছেন ঠ্যাংগার চর পরিদর্শনে। তার সাথে থাকছেন ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারী শীর্ষ কর্মকর্তারা। ৩০ মার্চ ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঠ্যাংগার চরে যাবেন। এ সফরসূচিতে আছে জাইল্লার চরও। সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে সেখানকার একটি প্রতিনিধি দল ৭ মার্চ ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। সেসময় প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়, ১৯৫৪ সালে নোয়াখালী জেলা থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত হবার পর এই দুই জেলার সীমানা চিহ্নিত করা হয়নি। সন্দ্বীপ এই দুই জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভূমি নিয়ে বিরোধ থেকে যায়। তাছাড়া, নদীর ভাঙ্গাগড়ার কারণে নতুন জেগে ওঠা ভূমির মালিকানা নিষ্পত্তি করা হয়নি। ২০১৬ সালের ২ মার্চ বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হলেও সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনে তাদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ^াস দেন। এর অংশ হিসেবে তিনি চরগুলো পরিদর্শনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধদ্ধান্ত নেন।
সন্দ্বীপের প্রতিনিধি দলে মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন খাদেম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আবু সুফিয়ান, বায়রা নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী, কালাপানিয়া ইউপির চেয়ারম্যান বায়রন চৌধুরী, জাসদ নেতা নুরুল আকতারসহ সন্দ্বীপের সীমানা ও ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতারা ছিলেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সীমানা নির্ধারণের দাবিতে সন্দ্বীপবাসীর আন্দোলনে সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন আলোচনা না হলেও মন্ত্রী পর্যায়ে আলাপে এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ‘সন্দ্বীপ’কে বলেছেন, আন্তরিকতা থাকলে জরিপের মাধ্যমে এই সমস্যার খুব দ্রুত সমাধান সম্ভব। তার মতে, সন্দ্বীপের সীমানা বিরোধ নোয়াখালীর সাথে। আর সন্দ্বীপের জেলা চট্টগ্রামের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে তেমন উদ্যোগ নেই। এর ফলে, একা একটি উপজেলা প্রশাসনের এ নিয়ে করার তেমন কিছু নেই।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত আসতে হবে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল থেকে। জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং এমনকি ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষেও উদ্যোগ নিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সন্দ্বীপের সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে ‘সন্দ্বীপ’ এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার কথা হয় প্রতিমন্ত্রীর সাথে। তিনি জানান, সন্দ্বীপের সংসদস সদস্যের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনে তিনি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন। তার মতে, এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন। জমিজমার মালিকানা যেহেতু জটিল বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে যেহেতু কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, এ ধরণের বিরোধ নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রীর সাথে সন্দ্বীপের প্রতিনিধি দলের বৈঠক বিষয়ে সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য আলহাজ মাহফুজুর রহমান মিতার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলাপে তিনি বেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। প্রতিনিধিদলের কথা শুনেছেন। এরপর জানিয়েছেন চর পরিদর্শনে তার সিদ্ধান্তের কথা। মিতা প্রতিমন্ত্রীর চর পরিদর্শনের সিদ্ধান্তকে বিরোধ নিষ্পত্তিকে একধাপ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সন্দ্বীপের এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেয়া হবে না। কিন্তু, সেই জন্য আমাদের যুদ্ধংদেহী হবার দরকার নেই। কাগজে দলিলে যা আছে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আমরা কাউকে বঞ্চিত করতে চাই না। আবার আমরাও বঞ্চিত হতে চাই না।
বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে আন্দোলন প্রতিবাদে সন্দ্বীপবাসীর ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় সন্দ্বীপবাসীর ঐক্যবদ্ধ হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দলমত নির্বশেষে সবাই অভিন্ন প্লাটফর্মে জড়ো হচ্ছেন আমি আনন্দিত। ইর্ষা আর ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এই ঐক্য যেনো কোনভাবেই নষ্ট না হয়, সেদিেেক নজর রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য।