‘ওয়াটার গেট’ কেলেংকারি কি?

সন্দ্বীপ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে নিকট অতীতের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা কোনটি? রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯৭০ এর দশকের আলোচিত ঘটনা ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’ স্থান পাবে এতে একনম্বরে। কি ছিলো ওই কেলেঙ্কারির মুলে? ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রচারাভিযানের কৌশল জেনে নেয়ার জন্য যে জোচ্চুরি করেছিলো রিপাবলিকান পার্টি, তা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে এই নামে। ওয়াশিংটনে ওয়াটার গেট ভবনে ছিলো ডেমোক্র্যাটদের সদর দপ্তর।
সেখানে যন্ত্র বসিয়ে আঁড়িপাতার চেষ্টা করেছিলো রিপাবলিকানরা। ১৯৭২ সালের ১৭ জুন এই অফিসে দরজা ভেঙ্গে ঢুকতে গিয়েছিলো ৫ ব্যক্তি। তারা ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে তদন্তের শুরুতে মনে করা হয়েছিলো এটি একটি স্বাভাবিক চুরির ঘটনা। কিন্তু, এফবিআই একপর্যায়ে তদন্তে এ ঘটনার সাথে সংশ্লেষ পায় রিপাবলিকান পার্টির। দলটির হয়ে আবার নির্বাচনে প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নিক্সনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লোকজন এ ঘটনার পেছনে ছিলো বলে জানতে পারে এফবিআই। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ডেমোক্র্যাটদের অফিসে আঁড়িপাতার জন্য বসিয়ে সেটি নিক্সনের হোয়াইট হাউসের অফিস থেকে রেকর্ড করার চেষ্টা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী কৌশল জানা এবং তাদের গোপন বৈঠকের আলোচনা শোনার জন্য মুলত এই ব্যবস্থা। শুরুতে প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তার নির্বাচনে দাািয়ত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা এক পর্যায়ে আদালতকে চিঠি দিয়ে পুরো ঘটনা ফাঁস করে দিলে প্রেসিডেন্টের জন্য বিপদ তৈরি হয়। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর আদা

এটি হচ্ছে আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত কেলেঙ্কারির মুল জায়গা, ওয়াটারগেট হোটেল বিল্ডিং

লত প্রেসিডেন্টকে তার অফিসে থাকা টেপ রেকর্ডার আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় একে একে ৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিক্সন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের জুলাইয়ে সিনেট এ কেলেঙ্কারির জন্য রাষ্ট্রপতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করে। তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আসন্ন হয়ে পড়ে। বুঝতে পেরে, ১৯৭৪ সালের ৯ আগষ্ট প্রেসিডেন্ট নিক্সন ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আর সেটি বুঝে নেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারল ফোর্ড।
নিক্সন হচ্ছেন আমেরিকার প্রথম এবং একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি চাপে পড়ে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন। এবং এর ফলে তিনি ইমপিচমেন্ট এড়াতে পেরেছিলেন।