প্রবাসের “সন্দ্বীপ’পত্রিকা: সামছুদ্দীন আজাদ

সন্দ্বীপ নামক পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহমুদকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। পেশাগত জীবনে একজন সাংবাদিক এমন ধারাবাহিতায় প্রবাসে এসে শত প্রতিকূলতার মাঝে একটি পত্রিকা প্রকাশ করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন – নিশ্চয় সাধুবাদ যোগ্য কাজ। এই প্রবাসে আমরা প্রচুর সন্দ্বীপ বাসী বসবাস করি। অর্থ বিত্তে শিক্ষায় দীক্ষায় – সন্দ্বীপ বাসীর অবস্থান চোখে পড়ার মত। আমারা অনেক সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেছি- নিতান্ত মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে – যা প্রশংসার যোগ্য। তবে, আমাদের মাঝে যেটির অভাব, সেটি হলো ঐক্য। যার ফলে, এই প্রবাসে প্রচন্ড দাপটের সাথে থেকেও আমরা কোন জায়গায় নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারিনি। আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকেও জানান দিতে পারেনি আমাদের বিশালত্বের কথা। যা হোক, প্রসঙ্গ না বাড়িয়ে সোহেল মাহমুদের মহতি উদ্যোগকে স্বাগত সামছুদ্দীন আজাজানিয়ে তার সদ্য প্রকাশিত পত্রিকা সম্পর্কে আমার কমেন্ট দিয়ে কিছু লিখার চেষ্টা করছি। যেহেতু পত্রিকার নাম “সন্দ্বীপ” আর সেই কারণে পত্রিকাটি দেশ প্রেমিক সন্দ্বীপ বাসীর কাছে একটি দূর্বলতার জায়গা তৈরী করেছে। চোখের সামনে পড়তেই দৃষ্টি এড়ানো যায় না- নিজ জন্মভূমির নামখচিত লিখাটি চোখে পড়লে। বাংলাদেশেও সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান দুই দুইবারের সাংসদ আমাদের প্রিয় মানুষ মরহুম মুস্তাফিজ সাহেব সাপ্তাহিক “সন্দ্বীপ” নামকরণে পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। পরে, “রূপালী” নামে ঢাকা থেকে আরেকটি দৈনিক তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হওয়ার পর সারা বাংলাদেশের অতি সাধারণ মানুষও সন্দ্বীপকে জেনেছে অতি সহজে। নিতান্ত সন্দ্বীপের মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং সন্দ্বীপের প্রতি ভালবাসার কারণে তিনি এমন উদ্যোগ নিয়ে যুগ যুগ ধরে সন্দ্বীপবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। একজন সন্দ্বীপবাসী হিসেবে শুধু নয়, সচেতন পাঠক বা লিখক হিসাবে আমি নিজেও এই নিউইয়র্ক থেকে সাপ্তাহিক জাগরণ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে ছিলাম তবে প্রচুর সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে আমি এটির প্রকাশনা স্থগিত রেখেছি। যে পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি এখন, তা কেবল অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য। নৈতিক বিকাশ, সাবলীল সুন্দও প্রতিশ্রুতিশীল সমাজ বিনির্মাণে এটি কোন অবদান রাখবে না। তবুও, নিজকে ব্যস্ত রেখেছি সার্বক্ষণিক সামাজিক, সাংস্কৃডুশ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে জড়িত হয়ে। সাথে সাথে স্থানীয় বাংলা ভাষাভাষী পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি করে নিজের জাগ্রত বিবেককে শাণিত করেই প্রবাসে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি।
“সন্দ্বীপ” পত্রিকার প্রথম প্রকাশনাটি ছিল এক পাতার ছোট কলেবরে। যা ছিল সৌজন্যতার প্রতীক। সেটিও আমি হাতে পেয়েছি, সংগ্রহে রেখেছি এবং পড়েছিও।
২৫ জানুয়ারী ২০১৭ তে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংখ্যাটি ও আমার কাছে আছে। প্রথমটির হেডলাইন ছিলো, “সন্দ্বীপ, সন্ত্রাসের জনপদ সমৃদ্ধির সম্ভাবনা”, দ্বিতীয় সংখ্যার ব্যানার হেড লাইন “সন্দ্বীপের শাসক দলে ত্রিধারা, রক্তক্ষের শংকা!” মজার ব্যাপার হল, প্রথম আর দ্বিতীয় সংখ্যায় হেড লাইন সংবাদের মধ্যে অপূর্ব মিল। মনে হলো, একই সংবাদের ধারাবাহিক প্রকাশ। সাংবাদিক হিসাবে জনাব সোহেল মাহামুদ কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান? একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসাবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পরপর পত্রিকার দু’ সংখ্যায় সরকারী দলের বিরুদ্ধে এমন নেগেটিভ সংবাদ পরিবেশন হয়তবা ভবিষ্যতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। তবে, সরকারের কিছু ভাল কর্মকান্ডও সন্দ্বীপকে নিয়ে নিশ্চয় রয়েছে, যা চার হাজার বছরের পুরনো সন্দ্বীপের মানুষ কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনি। এমন কিছু খবর থাকলে সন্দ্বীপের মানুষ অন্তত আশ্বস্ত হত যে, সরকার কিছু কর্মকান্ড সন্দ্বীপের মানুষের জন্য করছে এবং সেটি আপনার পত্রিকার মাধ্যমে সন্দ্বীপবাসী জানতে পারতো। আপনি মালিক ও সম্পাদক। আপনার দৃষ্টিতে যেটি শোভন, সাবলীল, যৌক্তিক, সেটি আপনি লিখবেন। এটি আপনার একান্ত রুচিবোধের ব্যাপার। এখানে পাঠকের মতামত গৌণ। সন্দ্বীপের আরও কিছু খবর আপনি ছেপেছেন যেটি তথ্যবহুল। যেটি আমাদের প্রবাসীদের জানা দরকার। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ব্যাপারে যেটুকু লিখেছেন, একইভাবে নিকট অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল সে সময়কার কোন সুসংবাদ, দু:সংবাদ যদি জানা থাকে সেটিও যদি উপস্থাপন করতেন, তাহলে প্রবাসী সন্দ্বীপেবাসী জানতে পারত বিএনপির শাসন আমলে সন্দ্বীপের চিত্র কেমন ছিল। আর সেটি জানতে পারলে সন্দ্বীপবাসীর মূল্যায়নের সুযোগ থাকতো।
পরিশেষে একজন পাঠক হিসাবে এভাবে লিখতে চাই, পত্রিকা টিকে থাকা না থাকা নির্ভর করে পাঠকপ্রিয়তার উপর। পত্রিকার চেহারা, পত্রিকার গড়ণ বলে দেবে পত্রিকার চরিত্রের কথা। সুতরাং, অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসাবে আপনি সেই চরিত্রের অবয়ব তুলে ধরতে সক্ষম হবেন আশা করি। তাহলে, পত্রিকা অবশ্যই পাঠক-সমাদৃত হবে এবং পত্রিকার সাংবাদিক কে সেটা খোঁজার দরকার হবে না। আমি চাই, আমার এলাকার একজন ভাল মানুষের সন্তান হিসেবে আপনার পত্রিকা এবং সাংবাদিক জীবন ভালই কাটুক। সন্দ্বীপ পত্রিকা যুগ যুগ ধরে টিকে থেকে প্রবাসী সন্দ্বীপবাসীর প্রতিনিধিত্ব করুক। জগতের সব কিছইু মানব কল্যাণের জন্য। আর, সেই কল্যাণের কথা বলতে গিয়ে চন্ডীদাস বলেছিলেন, ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই’। এমন মর্মবাণী সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। ধন্যবাদ।

লেখক: ভাইস প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ