সন্দ্বীপের দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা হবে -গণশুনানিতে দুদক কমিশনার

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:

স্যার, আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা নিয়েছি এ কথা সত্য। সন্দ্বীপে দুদকের গণশুনানি চলাকালে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার চুক্তিতে জনৈক ভুক্তভোগীর অভিযোগের জবাবে ভণিতা ছাড়াই ভূমি অফিসের নাজির জলিলের অকপটে ঘুষ গ্রহণের স্বীকারোক্তির বিষয়টি ছিল গতকালের টক অব দ্যা সন্দ্বীপ। জরিপ জটিলতায় নিজের ভিটে-বাড়ী বন্দোবস্তের আশায় জলিলকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না পেয়ে হারামিয়ার আশ্রাফ উল্যা গতকালের গণশুনানিতে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। শুনানিতে উপজেলা ভূমি অফিসের অভিযুক্ত এ কর্মচারীর বিরুদ্ধে যখন একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছিল সে সময় দর্শক সারিতে বসা ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক শামছুল আরেফিন। তিনি তাৎক্ষনিক জলিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার সকাল ১২ টায় কবি আব্দুল হাকিম মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ. খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় দুদকের গণশুনানীতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী জনগণের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম জাকারিয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক শামছুল আরেফিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাস্টার শাহজাহান বিএ, সন্দ্বীপ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসাইন তালুকদার। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক শামছুল আরেফিন বলেন, সাধারণ মানুষের নূন্যতম নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে ২০২১ সালের

মধ্যে আমরা এ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। এ জন্য প্রশাসন সহ সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই দেশকে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ভীষণ পূরণ হবে। এ সময় তিনি মাদক মুক্ত সমাজ গঠন করে দক্ষ যুব শক্তি গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সন্দ্বীপের ভূমি, রেজিস্টারি অফিস সহ বিভিন্ন অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে গিয়ে সেবা পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যে সব অফিসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তাদেরকে দু’মাস সময় দেয়া হচ্ছে। এরপর যদি দুর্নীতি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের চাকুরী বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রশাসনের লোকেরা জনগণের ট্যাক্সে বেতন পান তাই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে কারো ছাড় নেই। তিনি আরও বলেন-আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা হবে। এটা একার কাজ নয়, সম্মিলিত জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। সভার পূর্বে  সকাল ১১টায় হারামিয়া কমপ্লেক্সের সন্দ্বীপ-গুপ্তছড়া সড়কে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও পরে একটি র‌্যালী উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ করে।