এমপি আজ ঘোষণা দিক কাল সন্দ্বীপে সন্ত্রাস আর থাকবে না-মাস্টার শাহজাহান

সন্দ্বীপে সন্ত্রাসের দায় এমপি’র। সন্দ্বীপের রাজনীতি তার অপরাজনীতির কাছে বন্দী। তিনি দলের তোয়াক্কা করেন না। চলেন নিজের মতো করে। ‘সন্দ্বীপ’ এর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজ দলের ও এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ মাহফুজুর রহমান মিতাকে এভাবে দুষলেন সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান। বললেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর থেকে সন্দ্বীপে সন্ত্রাস বেড়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ‘সন্দ্বীপ’ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ।

* সোহেল মাহমুদঃ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সন্দ্বীপে আবারো রাজনীতির মাঠ গরম হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ মনে করে এই নির্বাচন আপনাদের দলের ভেতর যে টানাপড়েন, সেটিকে খানিকটা হলেও স্তিমিত করেছে। আপনার কিভাবে দেখছেন?
** মাস্টার শাহজাহানঃ উপজেলা আওয়ামী লীগে টানাপড়েন নেই। যেটুকু আছে, তা দল আর এমপি’র মধ্যে। তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো চলেন। বলেন এক, করেন আরেক। নির্বাচনের পর পর, আমাদের এক মিটিংয়ে তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবার ৫ জানুয়ারি আলাদা মিটিং করেছেন।

* সোহেল মাহমুদঃ দল যদি এমপি’র সাথে না থাকে, তাহলে কাদের নিয়ে চলছেন তিনি?
** মাস্টার শাহজাহানঃ উপজেলা ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। তিনি ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ছেলে নিয়ে আছেন। যুবলীগের আহবায়ক কমিটিও তার পকেটের। বিএনপি মাঠে নেই। এইজন্য তিনি রাজনীতিতে কোন প্রতিপক্ষ পাচ্ছেন না। কোন কিছুই তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। এ কারণে, তিনি কোন কিছু তোয়াক্কা করছেন না।

* সোহেল মাহমুদঃ জনগণতো ধরেই নিয়েছিলো, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপনি আর সংসদ সদস্য যেহেতু এক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন, তো আপনাদের মাঝে বিরোধ কমে গিয়েছে …
** মাস্টার শাহজাহানঃ দল থেকে জেলা পরিষদের সদস্য পদে কোন প্রার্থী ছিলো না। আমি কারো পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালাইনি। কিন্তু, মন থেকে চেয়েছি আফতাব খান অমি যেনো জয়লাভ করে। তার পিতা আকরাম খান দুলাল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন, মুলত, সেই দায় থেকে আমার চাওয়া ছিলো অমি জিতে আসুক। নির্বাচনের ২/৩ আগে, এমপি তাকে সমর্থন দেন।

* সোহেল মাহমুদঃ জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আপনার সাথে পৌর মেয়র জাফর উল্লাহ টিটুর বিরোধ তৈরি হয়েছে, এমনটাই গুঞ্জন আছে…
** মাস্টার শাহজাহানঃ ঘটনা ঘটলেই গুজব গুঞ্জন হবে। সত্যের বিপরীতে নানা কাহিনীও আসে বাজারে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন এতো সুষ্ঠু হবার পরও বিএনপি কথা বলছে। টিটু আমার আত্মীয়। তার কোন কাজ আমি পছন্দ নাও করতে পারি, সেটা মনোকষ্ট হতে পারে। দুরত্ব নয়। সে সাংগঠনিক লোক। তার অনুসারি অনেক। টিটু নিজে তরুণ, তার অনুসারিরাও তরুণ। এদের কোথাও ভুলত্রুটি হতে পারে। আমি মনে করি, সেগুলো শুধরে নেয়া যায়। সন্দ্বীপ যে পৌরসভা, এটা বোঝা যাচ্ছে টিটুর আমল থেকে। আমি তাকে অত্যন্ত সাংগঠনিক ছেলে হিসেবে চিনি।

* সোহেল মাহমুদঃ আপনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। উপজেলা চেয়ারম্যান। সন্দ্বীপে সন্ত্রাস হচ্ছে। আপনি দায় এড়াবেন কিভাবে?
** মাস্টার শাহজাহানঃ আমি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করি। সন্দ্বীপে সন্ত্রাস হচ্ছে, এটাতো মেনে নিচ্ছি। কিন্তু, এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি সন্দ্বীপের রাজনীতিতে সবকিছু নই। আমার ওপরে এমপি আছেন। প্রশাসন চলে তার কথায়। তার কথায় আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। পুলিশ তাদের পেছনে লেগে আছে। আর উনি বাড়িতে এলে তার পেছনে সব সন্ত্রাসী ভীড় জমায়। তিনি খুনের আসামীদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান।২০১৪ সালের পর সন্দ্বীপে যত অপরাধ, সেগুলোতে কারা জড়িত খুঁজে দেখলে সন্ত্রাসীদের সাথে কার সম্পর্ক বোঝা যাবে।

* সোহেল মাহমুদঃ বুঝলাম, কিন্তু এভাবে দোষারোপের রাজনীতিতে সন্দ্বীপের মানুষ জিম্মি হয়ে থাকবে কতদিন?
** মাস্টার শাহজাহানঃ একদিনও না! আমি চাই সন্দ্বীপে সন্ত্রাস থাকবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ আর সন্ত্রাস তো এক জিনিষ নয়। আজ এমপি ঘোষণা দিক, কাল থেকে সন্দ্বীপে সন্ত্রাস থাকবে না। আমি হলফ করে বলছি।

(সংক্ষেপিত)