জেলা পরিষদ নির্বাচন ইস্যুতে এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধ হয়নি: টিটু

মেয়র বললেন, জেলা পরিষদ নিয়ে জল ঘোলা করার অবকাশ নেই। এ ইস্যুতে, আওয়ামী লীগে কোন্দল কিংবা বিরোধ বেড়েছে ভাববারও কোন অবকাশ নেই।মেয়র মানে আমাদের সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র। জাফর উল্লাহ টিটু। তার সাথে কথা হয়েছে বৃহস্পতিবার। প্রশ্নে আরো বিষয়ের সাথে স্থান পেয়েছে মাত্র শেষ হওয়া চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে তার অবস্থান প্রসংগ। তিনি বলেছেন, সন্দ্বীপে সন্ত্রাস বিষয়েও। টেলিফোনে সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন “সন্দ্বীপ” সম্পাদক সোহেল মাহমুদ।

প্রশ্ন: জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপনার পছন্দের প্রার্থী হেরেছেন। বলা হচ্ছে, আপনি দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন।
জাফর উল্লাহ টিটু: জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়া সদস্য মনোনয়নের ব্যাপারে দলের কোন সিদ্ধান্ত ছিলো না। এ কারণে, সন্দ্বীপেও আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এটা করা যাবে না, এমন কোন নির্দেশনাতো দলের কেন্দ্র, জেলা কিংবা উপজেলা থেকেও ছিলো না। মাঠ পর্যায়ের কর্মী আমি। হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসিনি। তাই, দল সিদ্ধান্ত দিলে তার বাইরে যাবার কোন সুযোগ আমার নেই।

প্রশ্ন: এরপরও, নির্বাচনে আপনার ভুমিকা নিয়ে নানামুখী কথা হচ্ছে। আপনি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন। অভিযোগ আছে, বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে নির্বাচনে…
টিটু: আমি যা করেছি সন্দ্বীপের ভেতর করেছি। দিনের আলোতে। সন্দ্বীপের মানুষ সব দেখেছে। সবাই সবকিছু জানে। এই নির্বাচনে কার কি ভুমিকা ছিলো, কেউ প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে কিনা, টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা, এসব আমার চেয়ে আপনারা ভালো জানার কথা। জনগণ জানে সব।

প্রশ্ন: আপনার প্রার্থী হারলো কেনো?
টিটু: আমি যাকে সমর্থন দিয়েছি, তিনি ৮০ ভোট পেয়েছেন। এটা প্রমাণ করে, তিনি তুলনামুলকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। প্রতিযোগিতায় হারজিত থাকে। হারলো কেনো এটার মুল্যায়ন এই মুহুর্তে করার কিংবা সেটা প্রকাশ করার প্রয়োজন আপাতত নেই।

প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে আপনার সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা সংসদ সদস্যের সাথে দুরত্ব আরো বেড়েছে বলে মনে করেন অনেকে। আপনি কিভাবে দেখেন?
টিটু: রাজনীতি মানুষের ভাবনায় সবসময় রসদ জোগায়। কিন্তু, সেই ভাবনা মুছে ফেলার বা বন্ধ করার ক্ষমতা রাজনীতিকদের হাতে নেই। মানুষ ভাববেই। আপনি যতই ইতিবাচক চলবেন, তা নিয়ে কারো কারো নেতিবাচক ভাবনা থাকবেই। আমি মনে করি, মাননীয় এমপি আর উপজেলা চেয়ারম্যান দু’জনই আমার কাছে সম্মানীয়, শ্রদ্ধেয়। ওনাদের সাথে আমার বিরোধ বা দুরত্ব থাকার বা তৈরি হওয়ার কোন কারণ দেখি না।

প্রশ্ন: অন্য প্রসংগে আসি। আপনার বিরুদ্ধে এলাকার সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, আপনি সন্দ্বীপে বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছেন। এরা নানা অপরাধ করছে…
টিটু: সন্দ্বীপে সন্ত্রাস নেই একথা আমি বলবো না। কিন্তু, এর সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার কোন বাহিনী নেই। সন্ত্রাস যাদের জন্য ব্যবসা, আয়ের উৎস, আমার তাদের সাথেও কোন সম্পর্ক নেই। একসময়, সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরাপদ ছিলেন না। বিএনপি জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়েছে আমাদের। আমি সেই সংগ্রামের সৈনিক। দলের সেই সময়ের ত্যাগী নেতা কর্মীদের সাথে আমার যোগাযোগ আছে। তারাতো সন্ত্রাসী নন। দলের একনিষ্ঠ কর্মী। সন্দ্বীপে সন্ত্রাস কারা করছে? তারা কি সন্দ্বীপের বাইরের কেউ? তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। আমার যদি বাহিনী থাকে, তাহলে প্রশাসন তাদের ধরলেই হয়।
আমি বাহিনী কালচারে বিশ্বাসী নই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবসময় একই রকম। কঠোর। আমি আগে যেমন জনগণের ছিলাম। এখনো আছি। আগামীতেও থাকব। নির্বাচন ইস্যুতে আমার অবস্থানের হেরফের হবে না।

প্রশ্ন: আফতাব খান অমি নির্বাচিত হয়েছেন। তার জন্য আপনার কোন পরামর্শ!
টিটু: নির্বাচিত হবার পর আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আওয়ামী পরিবারের সন্তান তিনি। আমার সাথে তার সম্পর্ক বেশ চমৎকার। অমি পড়ালেখা জানা মানুষ। আশা করবো, মানুষের জন্য রাজনীতি করবেন তিনি। সন্দ্বীপের উন্নয়ন হবে তার ধ্যান জ্ঞান।

সোহেল মাহমুদ: আপনাকে ধন্যবাদ।
জাফর উল্লাহ টিটু: আপনাকেও ধন্যবাদ। “সন্দ্বীপ” এর পাঠকদের জন্য ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবার জন্য শুভ কামনা। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।