২০০১ সালে শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে হামলা করতে না দেয়ায় বাবুলের সাথে বিরোধ, বললেন সাবেক এমপি কামাল পাশা

বিশেষ প্রতিনিধি: সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক মরহুম হাজী আবদূল বাতেনের তৃতীয় পুত্র মোস্তফা কামাল পাশা। সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

১৯৪৭ সালে জন্ম নেয়া মোস্তফা কামাল পাশা এসএসসি পাস করেন ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল থেকে। এইচএসসি পাস করেন চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে। কলেজে অধ্যয়নকালে যুক্ত হন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে।
১৯৭৩ সালে প্রথম বারের মত রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটানা ১৭ বছর চেয়ারম্যান থাকার পর ১৯৯০ সালে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। বিএনপি থেকে ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে উরিরচরের সন্ত্রাসী জাসুর নেতৃত্বে মোস্তফা কামাল পাশার বাড়ীতে হামলা হয়। এসময় তার বড় ছেলে জাবেদ গুলিবিদ্ধ হয়।
মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগদান করি, এরপর ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচন করে হেরে যাই, পরে ২০০১ সালে এবং ২০০৮ সালে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। আমার জীবনে যত নির্বাচন করেছি তার মধ্যে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচন ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তখন আগের পাঁচ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার সময় এলাকায় এলাকায় বিশেষ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছিলো। তারা নিজদের গ্রুপিং এর কারণে এই সব সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছিলো, নির্বাচনের সময় এদের সবাইকে প্রতিহত করেই আমাকে জয়লাভ করতে হয়েছে।

মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ২০১৩ সালে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাসু বাহিনীকে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো, তারা মনে করেছিলো আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের কাঁটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন, আমার বড় ছেলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো। আল্লহর বিশেষ মেহেরবাণীতে সে প্রাণে রক্ষা পায়, এই ঘটনায় আমরা কোন মামলা করিনি, কারণ মামলা করে কোন লাভ হতোনা। উল্টো মামলাটা নষ্ট করে দিতো তারা। তাছাড়া, পাল্টা মামলা দিয়ে আমাদের লোকজনকেও হয়রানি করা হতো। ভবিষ্যতে কখনো সময় সুযোগ হলে মামলা করে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করবো। তবে, যারা আমার বাড়িতে হামলা করেছে, আমাকে ও আমার ছেলেকে গুলি করেছে তারা কেউ বেঁচে নেই। আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে ক্রসফায়ারে বিদায় হয়েছে। আমার বাড়িতে হামলা ছিলো সন্দ্বীপের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা।
২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর মোস্তফা কামাল বাবুল ও তার ভাইদের নেতৃত্বে আমাদের দলের একটা অংশ শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে হামলা করার চেষ্টা করেছিলো, খবর পেয়ে আমি পুলিশ পাঠিয়ে তা ঠেকিয়েছি। পুলিশকে বলেছি, হামলাকারী যে হোক তাকে প্রয়োজনে গুলি করতে। আওয়ামীলীগের লোকজন বাবুলদের অনেক কষ্ট দিয়েছিলো, তাদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছিলো। দলের জন্য বাবুলদের অনেক অবদান ছিলো, তারপরও আমি একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে হামলা সমর্থন করিনি। এরপর থেকে বাবুলরা দলের অভ্যন্তরে আমার বিরোধী। অবশ্য বাবুলের ভাইকে বাউরিয়ার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়ে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তিনবার সন্দ্বীপ গিয়েছিলেন। প্রথমবার ১৯৭৮ সালে, এরপর ১৯৭৯ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় এবং সবশেষে ১৯৮১ সালে মৃত্যুর ১৫ দিন আগে। প্রয়াত এই রাষ্ট্রপতির সন্দ্বীপ সফরের কর্মসূচীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তখনকার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল পাশা।

সেই সময়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, প্রথমবার ১৯৭৮সালে রাত আটটায় সন্দ্বীপ অবতরণ করেন জিয়াউর রহমান। নেমেই সন্দ্বীপের বিশিষ্টজনের সাথে  বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হাজী এবি কলেজের জন্য অনুদানের আবেদন জানালে তিনি কলেজটিকে সরকারি করার সিদ্ধান্ত জানান, পরবর্তৗতে ১৯৭৯ সালে হাজী এবি কলেজ সরকারি হয়। ওই বৈঠকে তাতক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয় প্রেসিডেন্ট জনসভা করবেন। পরদিন সকাল আটটায় সন্দ্বীপ মডেল হাইস্কুল মাঠে (মাঠটি ভাঙনে বিলীন) জনসভা হয়। ১৯৭৯সালে নির্বাচনী প্রচারণায় সন্দ্বীপ এসে এবি কলেজ মাঠে (মাঠটি ভাঙ্গনে বিলিন) জনসভা করেন। ১৯৮১ সালের ১৩ মে আবারো সন্দ্বীপ আসেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯ দফার পক্ষে কৃষক সমাবেশ করেন মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানে মাইটভাঙ্গার মুজিবুল হক প্রেসিডেন্ট জিয়ার জন্য ৩৭ কেজি ওজনের একটি রুই মাছ উপহার দিয়েছিলেন।
দলের প্রয়োজনে আবারো যে কোন দায়িত্ব ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রস্তুত আছেন বলে জানালেন মোস্তফা কামাল পাশা।

Recommended For You