স্মৃতিকথা লেখার প্রস্ততি এসকে সিনহার

সন্দ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার হাতে এখন অখ- অবসর। মেয়াদ শেষ হবার মাত্র ক’দিন আগে পদত্যাগ করে তিনি এখন নির্ভার। পদত্যাগের আগে তাকে নিয়ে উত্তপ্ত ছিলো দেশের রাজনীতি, সরব ছিলো গণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে দেশের আদালতপাড়ার ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিচার বিভাগে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি ঘটেনি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার বিধান রেখে যে সংশোধনী আওয়ামী লীগ এনেছিলো, সেটিই মূলত প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বাতিল করে দেয়। এই রায়ে প্রধান বিচারপতি কিছু পর্যবেক্ষণ যা নিয়ে রুষ্ট ছিলো আওয়ামী লীগ।

রায় দেয়ার আরো বেশ কিছুদিন পর প্রকাশিত হয় রায়ের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। সেটি দেখেই আস্তে আস্তে গরম হয়ে ওঠে রাজনীতির মাঠ।

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতিকে শেষ পর্যন্ত অবসরে যাবার নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগ করতে হয়েছে। সহকর্মী বিচারপতিদের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও দায়ের করেন রাষ্ট্রপতির কাছে। পুরো পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে, এস কে সিনহার পক্ষে আর প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিলো না।

পদত্যাগের আগেই বিদেশ সফরে চলে যান এস কে সিনহা। অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে তিনি কানাডায় যান। সবশেষ, তিনি কানাডা থেকে আবার দেশে গেছেন। কানাডায় বিমানবন্দরে এস কে সিনহার সাথে দেখা হয় প্রবাসী সাংবাদিক শওকত মিল্টনের। দৈনিক জনকন্ঠ ও এটিএন বাংলা’র সাংবাদিক, বর্তমানে কানাডা প্রবাসী মিল্টনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এখানে মিল্টনের রিপোর্টটি তুলে ধরা হলো।

স্মৃতিকথা লেখার প্রস্ততি এসকে সিনহার। বাকী জীবন জনহিতকর কাজ করে কাটাতে চান বাংলাদেশের এ সাবেক প্রধান বিচারপতি।

শওকত মিল্টন: সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অবসর জীবনটা জনহিতকর কাজ করে কাটাতে চান। তিনি বলেন, সিলেটে তাঁদের গ্রামের বাড়ীতে অনেক আগে থেকেই পারিবারিকভাবে বিভিন্ন দাতব্য কাজ করে থাকেন। মাসে সেখানে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করা হয়। তিনি এসব কাজকে আরো ছড়িয়ে দিতে চান।

কানাডা ছাড়ার আগে শনিবার (৬ জানুয়ারি) রাতে টরেন্টোতে এক ব্যক্তিগত আলাপচারিতাকালে তিনি একথা বলেন।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে বেশ কিছুদিন কানাডায় অবস্থান করছিলেন। তিনি টরেন্টোতে বসবাস করলেও এখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে খুব একটা ওঠাবসা করতে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁকে একদিন স্থানীয় ফেয়ারভিউ মলে এবং বাংলাদেশী গ্রোসারী শপে দেখা গেছে। বেশীরভাগ সময় তিনি এখানে বই পড়ে আর টিভি দেখে সময় কাটিয়েছেন। তাঁর সাথে কথা বলার সময় তিনি কোন ধরনের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতকার দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলাপচারিতার ততোটুকু প্রকাশ করা হয়েছে, যতটুকু তিনি অনুমতি দিয়েছেন। কথা প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি এখন স্মৃতিকথা লেখার প্রস্ততি নিচ্ছেন। স্মৃতিকথা অনূলিখনের জন্য এক প্রবাসী বাঙ্গালীর সহায়তা নেবেন বলেও জানান। সেই স্মৃতিকথায় সব প্রসঙ্গ থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি হেসে ফেলেন।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। আড্ডাচ্ছলে তিনি খোলামেলাভাবে গল্প করে যাচ্ছিলেন। কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বাংলাদেশের একজন মিডিয়া মালিক সম্পর্কে জানতে চান। মি. সিনহা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর আগ্রহের কথা জানান। জানতে চাওয়ার পরিপ্রিক্ষিতে বলেছেন এক এগারো থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের কর্মকান্ড নিয়ে। তবে সিঙ্গাপুরের বিষয়ে কোন কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

সুপ্রীম কোর্টে বিভিন্ন বিষয়ে শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব নিয়ম কানুন চালু করেছেন সে বিষয়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি নিয়ম করে দিয়েছিলাম কোন বিচারক অবসর গ্রহণের পর রায় লিখতে পারবেন না। কেননা অবসর গ্রহণের পর তিনি সিভিলিয়ান হয়ে যান। এ বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরব এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

পরিবেশ পরিস্থিতি অনূকুলে থাকলে দেশে ফিরবেন বলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ তিনি ফিরবেন সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে নিজে কিছুই বলেননি।

মি. সিনহা টরেন্টোর প্রবাস জীবনে মোটামুটি নিঃসঙ্গ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী এখনও ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।

Recommended For You