সাগর ডিঙিয়ে বিদ্যুতের আলো

ইতিহাসের পথে সন্দ্বীপ

মোহাম্মদ ওমর ফয়সাল (চট্টগ্রাম অফিস): শেষপর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে সন্দ্বীপে। জাতীয় গ্রিড থেকে এ বিদ্যুৎ সন্দ্বীপ নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায়। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে, চীন থেকে সন্দ্বীপের কাছে এসে গেছে ক্যাবলবাহী জাহাজ। আমাদের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান জাহাজ পরিদর্শন করেছেন। নিজের চোখে দেখে এসেছেন এই উন্নয়ন কাজ। বলেছেন, তিনি আনন্দিত। সন্দ্বীপের ইতিহাসে এমন উন্নয়নের অংশীদার হতে পেরে তিনি গর্বিত। ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যার ইচ্ছে ছাড়া এই উন্নয়নযজ্ঞ সম্ভব ছিলো না।

প্রায় ১৪৫কোটি টাকা ব্যায়ে উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে পিডিবি। ২০১৬সালের জানুয়ারীতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় সীতাকুন্ড থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত জাতীয় গ্রীড সম্প্রসারণ করা হবে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে। মুল ভুখন্ড থেকে বঙ্গোপসাগরের ‘সন্দ্বীপ চ্যানেল’ দ্বারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। বছরের বেশির ভাগ সময় উত্তাল থাকায় সাধারণত পিলার দিয়ে সন্দ্বীপ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অসম্ভব। মূলত: সেই কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে কাছের এই দ্বীপে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের পরিচালক আবদুল মোতালেব জানিয়েছেন, চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান জেডটিটি ও এসডিএসকে যৌথভাবে এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। জেডটিটির দায়িত্ব ক্যাবল  ৈতৈরি আার এসডেএস তা সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করার কাজ করবে।
তিনি আরো জানান, আগামী জুন ২০১৮এর মধ্যে ক্যাবল বসানোর কাজ শেষ হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর ২০১৮এ সন্দ্বীপে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।
আবদূর মোতালেব বলেন, সীতাকূন্ডের বাশঁবাড়ীয়া থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত সাব- মেরিন ক্যাবলের সংযোগ দেয়া হবে, মোট দুটি ক্যাবল বসানো হচ্ছে। সাধারণত একটি তারে বিদ্যুৎ প্রবাহ দেয়া হবে। যদি কখনো একটিতে ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে বিকল্প হিসেবে থাকা অপরটি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। ক্যাবলের নিরাপত্তার জন্য সমুদ্রের তলদেশের তিন থেকে ছয় মিটার মাটির নীচ দিয়েই ক্যাবলগুলো টেনে নেয়া হবে।

সাধারণত ৩৩কেভি সক্ষমতার এই ক্যাবল দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। তবে, শুরুতে সন্দ্বীপের চাহিদার কথা বিবেচনা রেখে প্রতিদিন আট মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপে ১১/৩৩কেভি ক্ষমতার দুটি সাবস্টেশন ও প্রায় ৪০কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে।
সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে নেয়া বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায় আশাপাশের দ্বীপ ও চরাঞ্চলেও সরবরাহ করার পরিকল্পনা বিদ্যুৎ বিভাগের আছে।

সাব-মেরিন ক্যাবল সংযোগ প্রকল্পের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে সন্দ্বীপে। চীনের প্রকৌশলীরা রাত-দিন কাজ করছেন সন্দ্বীপের বাউরিয়া ও সীতাকূন্ডের বাশবাড়ীয়া এলাকায়।
সাব-মেরিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে। জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলে পর্যটন ও শিল্পায়নে প্রচূর বিনিয়োগ আসবে সন্দ্বীপে। যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে শত শত বছর আলোবিহীন থাকা সম্ভাবনাময় এই দ্বীপটিতে।

Recommended For You