সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাদের সমস্যা বয়সে নয়, তাবেদারিতে

।।সম্পাদকের কলম।।

সোহেল মাহমুদ: “সন্দ্বীপে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা বানানো হয়েছে এমন কয়েকজনের ছাত্রত্ব নেই, নেতা হবার বয়সও নেই। কেউ আবার বিবাহিত।” – মেসেঞ্জারে এমন কয়েকটি বার্তা এসেছিলো “সদা সত্য বলিব” টাইপের কিছু আইডি থেকে। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হবার পর। দু’দিন আগে ছাত্রলীগ নিয়ে এমন আরো বার্তা এসেছে।

কথিত “অছাত্র”রা দায়িত্ব পাবার পরও কিন্তু সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের নামে কোন বদনাম শুনিনি। কেন্দ্রীয় সভাপতির ৬ কোটি টাকার বাড়ির গল্প, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিয়ে একাত্তর টিভিতে তার বক্তব্য, দেশব্যাপী ছাত্রলীগের নেতারা মগজের চেয়ে অন্যকিছুর ব্যবহার যে হারে বাড়িয়েছেন, সেখানে আমাদের “সুমন-সীমান্তরা” নিরুপদ্রব। তাদের বেশি বয়স হয়ে যাওয়া দোষের কিছু কি?

সন্দ্বীপে রাজনীতিসচেতন অনেকেই বিশ্বাস করেন, ছাত্রলীগে স্থান পেয়েছে সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার অনুসারীরা। আমি তাতে দোষের কিছু দেখি না। ছাত্রলীগের কেউ হয় এমপির, নয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান অথবা পৌর মেয়রের অনুসারি হবেনই। কারোরই অনুসারী নন, এমন কাউকে ছাত্রলীগে পাওয়া যাবে না। তো, সেক্ষত্রে কারোর অনুসারী হয়েও কেউ যদি সবার জন্য কাজ করেন মন্দ কি?
যদিও, সন্দ্বীপ সরকারী হাজী এবি কলেজের জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা সাজেদকে কমিটিতে না রাখার ঘটনা আওয়ামী রাজনীতির ভেতরে বাইরে বিস্ময় তৈরি করেছে। সাজেদ সন্দ্বীপ পৌরসভা মেয়র জাফর উল্লাহ টিটুর ঘনিষ্ট বলে পরিচিত। তাতে কি? তার ইর্ষা-জাগানিয়া নেতৃত্বগুণে সংগঠণের লাভ কি হতো না?

সুমন, ছিদ্দিক, নিয়াজদের পর সন্দ্বীপে ছাত্রলীগের অনেককে আমি চিনি না। কিন্তু, সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সাথে পরিচিত। ছাত্র রাজনীতিতে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আদর্শ হচ্ছে চর্চার বিষয়। প্রয়োগ-অনুশীলনে সেটা শানিত হয়। সন্দ্বীপের দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিক নেতা পায়নি। এখন, বেশি বয়সী, অছাত্র ও বিবাহিত নিবেদিতপ্রাণ নেতা পেয়ে যদি সংগঠন পরবর্তী নেতা বানানোর জায়গা তৈরি করতে পারে সমস্যা কি? সে পর্যন্ততো অপেক্ষা করতে হবে।

দীর্ঘদিন নেতৃত্ব না থাকায় ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় অনেকেই পরবর্তীকালে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। নেতৃত্ব আর তৈরি হতে পারেনি সেভাবে। কেউ ধর্মের নামে কট্টরপন্থা প্রচারের সাথে যুক্ত হয়েছে। সংগঠন আর এগুতে পারেনি। ছাত্রলীগের রাজনীতি সীমিত হয়েছে ক্ষুদ্র পরিসরে।

আমাকে যারা ছাত্রনেতাদের বয়স নিয়ে কথা বলেছেন, তাদের হিংসা, সেইসাথে স্থূলবুদ্ধিতার নিন্দা করি। হিংসা, কারণ তারা নেতাদের বয়স, ছাত্রত্ব, বিয়ে নিয়ে কথা বলে আসলে সংগঠনের নতুন গতিকে টেনে ধরতে চেয়েছেন। স্থূলবুদ্ধিতা বলছি একারণে যে, তারা এ ছাত্রনেতাদের কারোরই তাবেদারী, মোসাহেবী স্বভাবটা তুলে ধরতে পারেননি।

ছাত্রলীগের নেতারা সংগঠনকে চাঙ্গা করবে। মাঠ পর্যায় থেকে ছাত্রলীগের আলো ছড়িয়ে দেবে। নতুন নতুন কর্মসূচি নেবে। শিক্ষার্থীদের সম্মোহন করবে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের তাবেদারি করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাজ নয়। সন্দ্বীপের ছাত্রলীগ নেতাদের কেউ কেউ আজকাল রীতিমতো ব্যক্তিপূঁজা করছে। এবং সেটা দৃশকটু কায়দায়। তাও আবার সবাই মিলে এক ব্যক্তির।

ছাত্রলীগের ব্যক্তিপূঁজা বন্ধ করা দরকার।
দূর্দিনে ব্যক্তি ছায়া সরিয়ে নিয়ে পারে।
ব্যক্তি নিজে ছায়াহীন হতে পারে।

সংগঠন বা কর্মী?
কখনোই ছায়া ছাড়ে না।
নেতৃত্বের আসল ছায়া সেখানে।

Recommended For You