সন্দ্বীপে বেড়িবাঁধে উচ্ছেদ: অজুহাত উন্নয়ন

কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত

মানুষের পাশে কেউই নেই

সালেহ নোমান, আবাসিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম), সন্দ্বীপ ঘুরে এসে: বেড়ি বাধ থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষগুলোর পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। উন্নয়নের গল্পে হারিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়হীন মানুষদের হাহাকার। সমুদ্রের ভাঙ্গনে জীবনে আরো অনেকবার আশ্রয় হারিয়েছে সন্দ্বীপে বেড়িঁবাধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো। এবারও তাদের আশ্রয় চলে গেছে, তবে অন্যবারের চেয়ে এবারের পার্থক্য আছে। অন্যবার আশ্রয়হীন হওয়ার কারণ ছিলো রুদ্র প্রকৃতি, আর এবার তাদের আশ্রয় গেছে উন্নয়নের অজুহাতে।

গত কয়েক দশক ধরে বেড়িঁবাধে বসতি গড়ে তোলে কৃষি কাজ আর পশু পালনে এক প্রকার নির্বিঘেœ জীবন যাপন করে আসছিলো ১৫ হাজারের মত মানুষ। এসব মানুষের ঘর-বাড়ি জমি হারিয়েছে সন্দ্বীপের পশ্চিাংশে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ভাঙ্গনে। তখন তারা অন্তত; আশ্রয় পেয়েছিলো পূর্বপাশের বিশ্ব বেড়িবাঁধে। কিন্তু এখন বেড়ি বাঁধ সম্প্রসারণ হচ্ছে। সমুদ্রের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট বাড়তি উচ্চতার জোয়ার ঠেকানোর উপযোগি করা হচ্ছে বেড়িবাঁধটিকে।

কিন্তু কোন পক্ষই ভাবেনি বেড়িবাধেঁ বসবাস করা মানুষগুলো কোথায় আশ্রয় নেবে?

বলা হচ্ছে, বেড়িবাঁধ সরকারি জায়গায় আর সরকারি জায়গায় বসবাস করা অবৈধ। কিন্তু নাগরিকদের আশ্রয়হীন করে সেই উন্নয়নের  সুফল কে ভোগ করবে? কার জন্যই এই উন্নয়ন? শত শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া যায় অথচ কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করলেই বেড়িবাধেঁর মানুষগুলোকে স্বল্প অথবা মধ্য মেয়াদে পূন:বাসন করা যেতো। দরিদ্র ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া ’আশ্রয়ন’ প্রকল্প সারা দেশে সমাদৃত হয়েছিলো। এই রকম প্রকল্পেও বেড়িবাধেঁর মানুষদের আশ্রয় জটতে পারতো, যার জন্য প্রয়োজন ছিলো শুধু মাত্র উদ্যোগের। এই উদ্যোগ নেয়া দূরের কথা তীব্র শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করা মানুষগুলোকে সমবেদনা জানানোর জন্যও কাউকে পাওয়া যায়নি।

কালাপানিয়া থেকে শুরু করে সন্দ্বীপের উত্তর পাশ ও পূর্ব পাশের মগধরা পর্যন্ত চল্লিশ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন বেড়িবাধঁ নির্মিত হচ্ছে।  গাছুয়া ও সন্তোষপুর অংশে বেড়িবাধেঁ কাজ শুরু হয়েছে। এই বেড়ি বাধঁ থেকে উচ্ছেদ হয়েছে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ পাশ্ববর্তী ধান ক্ষেতে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে। খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করার পাশাপাশি  এসব মানুষ স্যানিটেশন ও খাবার পানির তীব্র সংকটে ভুগছে তারা।  নিজদের মাথা গোঁজার ঠায় নেই অথচ গবাদি পশুর আশ্রয়ের জন্যও ভাবতে হচ্ছে অসহায় এসব মানুষদের। বেড়ি বাধেঁ বসবাস করা মানুষদের বেশির ভাগই চরের জ,িতে চাষাবাদ করতো। বিগত আমন মওসুমের পাকা ধান মাড়াই করে ঘরে তোলার আগেই তাদেরকে ঘর ভেঙ্গে খোলা আকাশের নীচে এসে দাড়াাঁতে হলো। দীর্ঘাপাড় সন্তোষপুর এলাকায় অনেকেই ধান কেটে ‘পারা’ দিয়ে রেখেছে। সংরক্ষণের জায়গা না পাওয়ায় ধান মাড়াই করতে পারছেনা।

দীর্ঘপাড় বেড়ি বাধেঁর একজন বাসিন্দা সোহেল মিয়া জানিয়েছেন, তারা ১০/১২টি গরু ও পাঁচটি মহিষ এখন রাতে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তাদের ভোগান্তির কথা উপরের নেতৃবৃন্দকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে, আশ্বস্ত করা হয়েছে বেড়ি বাধেঁর নির্মাণ কাজ শেষ হলে পুর্বের জায়গায় তারা  বসবাস করতে পারবে।

Recommended For You