বছরজুড়ে আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফিরোজ হোসেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালের সবচেয়ে বড়ো ঘটনা কি? এখানকার সবক’টি সংবাদ মাধ্যম এদেশের সালতামামি কিংবা সারাবছরের ঘটনাপঞ্জি থেকে বাছাই করে সবার আগে জায়গা দিয়েছে ডোনাল্ড জন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে। এরপর স্থান পেয়েছে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ান চালবাজির বিষয়টি। তৃতীয় অবস্থানে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন পদ থেকে একের পর এক কর্মকর্তার বিদায়ের ঘটনা। চার সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ভয়ানক প্রকৃতির ঘূর্ণিঝড়ও কিন্তু জায়গা করে নিয়েছে বছরের আলোচিত ঘটনাপঞ্জিতে। লাস ভেগাসের গণহত্যার কথা মনে আছে? যাতে ৫৮ জন মারা গিয়েছিলো এক গানের অনুষ্ঠানে ৬৪ বছরের এক ব্যক্তির গুলিতে? বছরের আলোচিত ঘটনায় সেটিও স্থান করে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘটনা দুর্ঘটনার শেষ নেই। ইতিবাচক ঘটনাও আছে অনেক। কিন্তু, নেতিবাচক এতো ঘটনাকে ছাপিয়ে ইতিবাচক কোন ঘটনাই জায়গা করে নিতে পারেনি বর্ষপরিক্রমায়। প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে নানা বিখ্যাত মানুষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে এসেছে সালতামামির ঘরে। ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া প্রত্যেকটি মাসে কোন না কোনভাবে আলোচনায় থেকেছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি
২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মার্কিন ধনকুবের ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ২৭ জানুয়ারি সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থী ও ভ্রমণকারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার এ পদক্ষেপে ফুঁসে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজধানী ওয়াশিংটনসহ বড় বড় শহরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। পরদিনই নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে ঘিরে বিক্ষোভ করে শ’ শ’ মানুষ। অভিবাসন আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপে বিমানবন্দর থেকে ছাড়া পান অনেক ব্যক্তি। এরপর, মামলার কারণে আদালত এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। ট্রাম্পকে সেসময় আদালত নিয়ে কটুক্তি করতে দেখা গেছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদেশ না মানার ঘোষণা দিলে ট্রাম্প বরখাস্ত করেন ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটসকে। আদালতের আদেশের কারণে একসময় এ নিষেধাজ্ঞার নতুন সংস্করণ জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটিও দীর্ঘদিন আদালতের স্থগিতাদেশের কবলে ছিলো। এর মধ্যে, তৃতীয় দফায় ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাতে দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮টিতে। দেশগুলো হচ্ছে চাদ, ইরান, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, সোমালিয়া ও ইয়েমেন। প্রথম নিষেধাজ্ঞায় ইরাকের নাম ছিলো তালিকায়। এ নিষেধাজ্ঞা আদেশে তিন দফা যোজন বিয়োজন হয়েছে। কিছু শর্ত শিথিল হয়েছে।
রাশিয়াকা-
ট্রাম্পের নিজের এবং তার প্রশাসনের জন্য বছরজুড়ে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা ছিলো রাশিয়াকা-ের তদন্ত। রাশিয়ার সাইবার গোয়েন্দারা মার্কিন নির্বাচনী কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে ম্যানিপুলেট করেছে এমন দাবি ছিলো এখনকার সংবাদমাধ্যমের। মূলত সেই দাবিকে ঘিরেই মার্কিন প্রশাসন আর রাজনীতিতে বছরজুড়ে ছিলো নানা ঘটনা। পদত্যাগ আর বরখাস্ত এটি দু’টি যেনো নিয়মে পরিণত হয় প্রশাসনে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে মাইকেল ফ্লিনের সরে যাওয়া ছিলো আলোচিত ঘটনা। রাশিয়ার গোয়েন্দাদের সাথে তার যোগাযোগ ছিলো অভিযোগ ওঠার পর মাত্র ২১ দিনের মাথায় সরে দাঁড়াতে হয়েছিলো জাঁদরেল এই সামরিক কর্মকর্তাকে। শুধু তাই নয়, রাশিয়াকা- নিয়ে শুরুতে তদন্ত করতে অনীহা দেখিয়ে পড়ে সরব হওয়া এফবিআই প্রধান জেমস কমেইকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেন ট্রাম্প। নির্বাচনের কিছুদিন আগে হিলারী ক্লিনটনের কথিত ই-মেইল কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে নেমে বিতর্কিত হয়ে পড়া কোমেই নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন প্রেসিডেন্টের। কিন্তু, রাশিয়াকা- নিয়ে আইনপ্রণেতাদের কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়ে বিপদে পড়ে যান তিনি। পরিণতি চাকরিচ্যুতি।
রাশিয়াকা-ের তদন্তে বিশেষ কৌঁসুলি বা পরামর্শক নিয়োগ ছিলো মার্কিন রাজনীতিতে বছরের অন্যতম বড়ো ঘটনা। মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় রবার্ট মুয়েলার নামে এক ঝানু আইনজীবীকে এই পদে নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তার ঘনিষ্টজনদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। মুয়েলার একের পর তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনছে নতুন নতুন তথ্য। এতোদিন যারা রাশিয়াকা-কে অপপ্রচার দাবি করেছেন, তাদের অনেকেই এখন নানা তথ্য দিচ্ছেন। রাশিয়ার চালবাজির ঘটনায় জড়িয়ে গেছে প্রেসিডেন্টের মেয়েজামাই জারেড কুশনারের নাম। ট্রাম্পের একসময়ের প্রচার চেয়ারম্যান পল ম্যানাপোর্ট, তার সহযোগী রিক গেটস, আর ট্রাম্পের প্রচার উপদেষ্টা জর্জ পাপাদোপৌলসকে গ্রেফতার করা হয় মুয়েলারের তদন্তের সূত্র ধরে। কম আলোচিত আরো নানা কাহিনী আছে এই ঘটনাকে ঘিরে।
মার্কিন নির্বাচন নিয়ে রাশিয়া নয়ছয় করেছে, সাধারণ নাগরিকদের এ বিশ^াস আরো শক্ত হতে চলেছে মুয়েলারের তদন্তে একের পর এক নতুন ঘটনা জানাজানি হবার পর। এখন নতুন বছরে নতুন কোন চমক আসে কিনা দেখার বিষয়।
ট্রাম্পের অন্যসব ঝামেলা
বিদায়ী বছরে পদত্যাগের রেশ যেন কাটছিলই না ট্রাম্প প্রশাসনে। সরকারি কাজে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত ফ্লাইট ব্যবহার করার কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে পদত্যাগ করেন ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টম প্রাইস। পদত্যাগ করেন প্রধান পরামর্শক স্টিভ ব্যানন। এদের সবার আগে, ২ ফেব্রুয়ারিতে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন উবার সিইও ট্রাভিস কালানিক। যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচিকে দায়িত্ব পাওয়ার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দেয়া হয় অব্যাহতি। আর স্কারামুচির নিয়োগকে বড় ধরণের ভুল আখ্যা দিয়ে সরে দাঁড়ান প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার। গণমাধ্যমের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিষয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাসকে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যসামগ্রীকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তরান্বিত করাই লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই আলোচনায় আসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পারিবারিক ব্যবসায় বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর তৈরি সামগ্রী বিপণন করছেন তিনি। এমন অভিযোগে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক মিতা গোল্ড জানান, ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকার কোম্পানি বিদেশি ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা পোশাক ও জুতা বিক্রি করছে। এ নিয়েও কম সমালোচনায় পড়েননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ট্রাম্প রেকর্ড করেছেন কথায় কথায় টুইট করা নিয়ে। বছরের শেষ দিন পর্যন্ত হিসেবে তার টুইট সংখ্যা ২৭শ’ ছাড়িয়ে যাবার কথা। টুইটারে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ৪ কোটি ১ লাখ ফলোয়ার নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
অন্যান্য বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্যোগও কম ছিল না। গত ২৫ আগস্ট টেক্সাসে আঘাত হানে প্রাণঘাতী হারিকেন হার্ভে। মারা যায় অন্তত ৮০ জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড়শ’ বিলিয়ন ডলারে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলসহ ক্যারিবিয়ান অঞ্চল। হিউস্টনে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। আর ২০ সেপ্টেম্বর পুয়ের্তো রিকোয় আঘাত হানে হারিকেন মারিয়া। বিদায়ী বছরে সবশেষ যোগ হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল। আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকশ’ একর বন। আগুন নেভাতে কাজ করে সাড়ে ৮ হাজার দমকল কর্মী।
বন্দুক হামলার ঘটনা
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হাজারেরও বেশি বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অবিশ^াস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। এসব হামলায় মারা গেছে ১৫ হাজার ১ ৯৮ জন (২৬ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত), যাদের ৩,১৮১ জন কিশোর। শিশু আছে ৭১৬ জন। পহেলা অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। লাস ভেগাসের উন্মুক্ত কনসার্টে গুলি চালিয়ে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হয় পাঁচ শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবার আলোচনায় এলেও তা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া দক্ষিণ টেক্সাসের একটি গির্জায় হামলায় নিহত হয় ২৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে আমেরিকায় বিভিন্ন অঞ্চলে বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ১৪৯ জনে।
কেকেকে’র উত্থান
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ‘ক্লু ক্লাক্স ক্লান’, সংক্ষেপে কেকেকে বলে পরিচিতি যার। নিউ জার্সি থেকে লস এঞ্জেলস পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে চরমপন্থী এ গ্রুপ, যাদের বলা হয় শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এ গ্রুপের কর্মকা- বেড়েছে। কোন কোন শহরে এদের কারণে ভয়ে মুখ খোলার সাহসও পায় না অভিবাসীরা। শার্লটসভিলের কথা মনে আছে? ভার্জিনিয়ার এই এলাকায় ১২ আগস্ট ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদকারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে হেদার ডি হায়ার নামে এক আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছিলো এক শে^তাঙ্গ আধিপত্যবাদী, যাকে কিনা মানসিক বিকারগ্রস্ত বলা হয়েছে। কেকেকে’র উত্থান আমেরিকায় নতুন ঘটনা না হলেও বিভিন্ন শহরে তাদের সাম্প্রতিক সময়ের নানা কর্মসূচি একথা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ঢোকার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের চলনে জ¦ালানি পেয়েছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে আতঙ্ক
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে সাইকেল চালানোর লেনে গাড়ি তুলে দিয়ে ৮ জনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিলো ৩১ অক্টোবর। উজবেকিস্তানে জন্ম নেয়া সায়ফুল্ল সাইপভকে এ ঘটনার পর পর ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিলো। ১১ ডিসেম্বর ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার আর পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে চলাচলের সুড়ঙ্গপথে নিজের শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে আহত হয়েছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আকায়েদ উল্লাহ। এদের দু’জন অভিবাসী। আর এই দুই ঘটনাকে পুঁজি করেই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অভিবাসন বিরোধী সব পরিকল্পনা আর নীতিকে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অভিবাসন বন্ধের নানা চাল চালছেন।
সাইপভের ঘটনার পর থেকে ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী বড়গলায় নতুন মাত্রা যোগ করে দিলো আকায়েদের ঘটনা। দুয়ে মিলে সোনায় যেনো সোহাগা ঢালা যেনো। যেনো ট্রাম্প এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বসেছেন, ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি নামেই পরিচিত) আর পারিবারিক ভিসা (চেইন মাইগ্রেশন বলে পরিচিত)বন্ধ করে দেবেন তিনি। ট্রাম্পের ঘোষণামতো আদৌ তা কার্যকরের পথে যাবে কিনা তার প্রশাসন, বোঝা যাবে নতুন বছরে।
ট্যাক্স ইস্যু
বড় বড় কিংবা করপোরেট কোম্পানিগুলোর সুবিধা করে দিয়ে নতুন কর সংস্কার বিল পাস করলো মার্কিন সিনেট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিল পাসের মধ্য দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে আরো সুসংহত করলেন বলা যায়। আমেরিকার রাজনীতিতে জনগণ নিয়ামক হলেও আর্থ-সামাজিক অবস্থার নিয়ন্তা যে ধনী শ্রেণী নতুন বিলে মূলত তাদের পোয়াবারো হবে, এমনটাই বলছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের কর ৩৫ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিলের কারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে কর সুবিধা পেলো, তা থেকে তারা নতুন বিনিয়োগ করতে পারবে। কর্মীদের মানোন্নয়নে ব্যয় বাড়াতে পারবে।
ইমপিচমেন্ট
গত একবছরে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে সবচেয়ে কাম্য শব্দ ছিলো ইমপিচমেন্ট। হোয়াইট হাউসে, সিনেটে কিংবা জনারণ্যে প্রেসিডেন্টের ইমচিপমেন্ট সম্ভাবনা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাশিয়াকা- সামনে চলে আসায় একের পর এ যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে ইমপিচমেন্ট সম্ভাবনাও সামনে চলে আসে। এরই মধ্যে, টেক্সাসের ডেমোক্রেটদলীয় প্রতিনিধি আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার যে প্রস্তাব হাউসে এনেছিলেন, সেটি কিন্ত ডেমোক্রেটদেরই বিরোধিতার কারণে ৩৬৪-৫৮ ভোটে হেরে গেছে। গ্রিন তার প্রস্তাবে বেশ কিছু যুক্তির সাথে এও বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদের অমর্যাদা করেছেন ট্রাম্প। আপাতত, এই উদ্যোগের মৃত্যু হলেও ডেমোক্রেটরা কিন্তু ইমপিচমেন্ট নিয়ে হাল ছেড়েছে বলা যায় না। ডেমোক্রেট নীতি নির্ধারকরা মনে করে, সিনেটের দুই জায়গায় শক্তিশালী রিপাবলিকানদের সাথে এই মুহূর্তে পেরে ওঠা যাবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি ভালো ফল করা যায়, তবেই কেবল সেপথে এগুনো যাবে। সে জন্য ২০১৮ সালের অপেক্ষা।
এদিকে, ডেমোক্রেট পার্টির বড় তহবিলদাতা ধনকুবের টম স্টেয়ের কিন্তু তার ‘ইমপিচ ট্রাম্প’ প্রচারণা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। ইতোমধ্যে তার এই কার্যক্রম ৩০ লাখেরও বেশি মার্কিনীর কাছ থেকে অনলাইন আবেদন সংগ্রহ করেছে যাতে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার পক্ষে সই (অনলাইন পিটিশন সাইনআপ) দিয়েছেন। এদিকে, এক জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমগুলো বলছে, ৪০ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চায়।

Recommended For You