পর্নোতারকার সাথে যৌনসম্পর্ক: ফেঁসে যাচ্ছেন ট্রাম্প!

সোহেল মাহমুদ: পর্নোতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সাথে যৌনসম্পর্ক নিয়ে বেহাল দশা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের। প্রেয়সীর মুখ বন্ধ রাখতে অর্থ দেয়ার খবর যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে ফেডারেল নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। গুরুতর এ অভিযোগে (ফেলনি) ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ সাজার আওতায় না এলেও সেক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনের দায় নিতে হতে পারে ট্রাম্পকে।  ট্রাম্প-পর্নোতারকা সম্পর্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আলোচিত হচ্ছে এ ইস্যু। যাকে ঘিরে এতো আলোচনা, সেই স্টর্মি ড্যানিয়েলস এখন চাইছেন প্রকাশ্যে সব খুলে বলতে। বাধা হচ্ছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে করা একটি চুক্তি। সেসময় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার নিয়ে, তিনি এ সম্পর্ক বিষয়ে প্রকাশ্যে কোন কথা বলবেন না বলে চুক্তি করেছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবীর সাথে। শেষপর্যন্ত, চুক্তিটি বাতিলের আবেদন জানিয়ে আদালতে গেছেন ড্যানিয়েলস, মার্চের প্রথম সপ্তাহে (৬ মার্চ)। এর মধ্যে, পানি গড়িয়েছে আরো বহুদূর। বিষয়টি আদালতের বাইরে সমঝোতার যে চেষ্টা চলছিলো, সেটিও আপাত দৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ১২ মার্চ মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্টর্মি ড্যানিয়েলস তার মুখ রাখার জন্যে ট্রাম্পের আইনজীবীর মাধ্যমে পাওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার এখন ফেরত দিতে চান। তার আইনজীবী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে ট্রাম্পের আইনজীবীকে। ইংরেজি স্টর্মি শব্দের আক্ষরিক অর্থ ঝড়ো। ‘‘পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ’’টিকে এখন সেই ঝড়ো পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তার পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক আর বিড়ম্বনা। চেয়ারে বসার আগে থেকে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিতর্কে একের পর এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এখন স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সাথে যৌনসম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের মুখোমুখি তিনি। ক্ষমতার বছরপূর্তির কালে এসে প্রেসিডেন্টের সামনে নতুন বিপদ- স্টর্মি ড্যানিয়েলস। গেলো জানুয়ারিতে, মার্কিন গণমাধ্যম এ পর্নোতারকার সাথে ট্রাম্পের ‘বিছানার সম্পর্ক’টা সামনে নিয়ে আসে। এরপর থেকে নানা ডালপালা গজাচ্ছে এ কা-। শুরুতে ট্রাম্প আর হোয়াইট হাউস এ সম্পর্ককে বানানো কাহিনী বলতে চেয়েছেন। ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখার জন্য অর্থ দেয়ার কথাও অস্বীকার করেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন। এর ক’দিনের মধ্যেই এই কোহেনই বিবৃতি দিয়ে জানান, একটি বানানো গল্প হলেও ট্রাম্পের মুখ রক্ষার জন্য নির্বাচনের আগে নিজের পকেট থেকেই তিনি ড্যানিয়েলসকে অর্থগুলো দিয়েছিলেন।

আদালতে ড্যানিয়েল: লস এঞ্জেলস সুপিরিয়র কোর্টে ৬ মার্চ ড্যানিয়েলসের পক্ষে যে মামলাটি করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ না খোলার জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ১১ দিন আগে (অক্টোবর ২৮, ২০১৬) চুক্তি সই করেছিলেন দু’পক্ষ, সেটি অকার্যকর মর্মে আদালতের আদেশ চান তারা। আদালতে আরজিতে যুক্তি দেখানো হয়, আবেদনকারী যেহেতু চুক্তিটি অকার্যকর বলে মনে করেন, তিনি কোন অবস্থাতেই আর চুপ থাকতে চান না। আবেদনকারী আদালতে জানান, গেলো ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী কোহেন একটি মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু করেন, যা আসলে প্রতারণাপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর, সেই প্রক্রিয়ায় দুইপক্ষের সম্মতিপত্রে ট্রাম্পের যে সই ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি আসলে তার নয়। ড্যানিয়েলস ট্রাম্পের আইনজীবীর সাথে করা ’চুপচুক্তি’র কারণে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কোন তথ্য- বক্তব্য, টেক্সট, অডিও, ভিডিও কিংবা ছবি প্রকাশ করতে পারবেন না। সিবিএস সেই চুক্তির কারণে ড্যানিয়েলসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেও প্রচার করছে না বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ড্যানিয়েলসের আইনজীবী চাইছেন, যত দ্রুত সম্ভব চুক্তিটি বাতিল কিংবা অকার্যকর হিসেবে গণ্য করাতে। এজন্য, ৬ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলাকে চাপ হিসেবে প্রয়োগ করে ট্রাম্প শিবিরের সাথে নতুন সমঝোতায় আসতে চাইছে প্রতিপক্ষ। নির্বিকার ট্রাম্প! এতো ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিন্তু তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কথা বলে যাচ্ছেন। আচরণ করছেন এমন করে যেনো তিনি এমন ‘বানানো গল্প’কে মোটেও আমলে আনছেন না। আর, ড্যানিয়েলসের সাথে স্বামীর যৌনসম্পর্কের কাহিনী প্রকাশিত হবার পর এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। স্বামী আর সন্তানের সাথেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এই দম্পতির এই আপাত স্বাভাবিক আচরণের মাঝে শঙ্কাজাগানিয়া খবর হচ্ছে, ড্যানিয়েলস যদি এ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান আর সেটি যদি প্রকাশ হতে থাকে, তাহলে প্রেসিডেন্টের ওপর চারিদিক থেকে চাপ যে বাড়বে, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এমনিতে নিজ দলীয় আইন প্রণেতাদের কাছে তেমন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নেই তার। এর ওপর, অভিবাসন, বৈশি^ক বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে এদের অনেকের সাথে প্রেসিডেন্টের দূরত্ব বাড়ছে।

যা সত্য বলে মনে করা হচ্ছে: ট্রাম্পের সাথে সত্যিই কি ড্যানিয়েলসের যৌনসম্পর্ক ছিলো? ট্রাম্পশিবির এ ঘটনা নিয়ে তাদের ‘না’, ‘না’ বলার সমর্থনে কোন যুক্তিই দাঁড় করাতে পারছে না। বিপরীতে, ড্যানিয়েলসের বক্তব্যের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে একের পর এক যুক্তি। ট্রাম্পের আইনজীবী মি. কোহেন শুরুতে অর্থলেনদেন নিয়ে ড্যানিয়েলসের দাবি অস্বীকার করেছিলেন কেনো? তিনি কেনো এতো পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন? তাও নিজের ব্যক্তিগত বৈধ তহবিল থেকে? তার দাবি, তিনি তার মক্কেলের সম্মান বাঁচাতে চেয়েছেন। এ লেনদেন নিয়ে তিনি ট্রাম্পকেও জানাননি। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা প্রকাশিত হলে ট্রাম্পের ক্ষতি হতো পারতো বলে তার বিশ^াস। প্রশ্ন উঠেছে, একটি প্রতারণাপূর্ণ ও মিথ্যে ঘটনা যদি হয়ে থাকে এটি, তাহলে সেই মিথ্যেকে তিনি কাউকে না জানিয়ে, বিশেষ করে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকেও না জানিয়ে এককভাবে মোকাবেলা করতে চেয়েছিলেন কেনো? বিশ্লেষকরা বলছেন, শুরুতেই বিষয়টাকে হাল্কাভাবে নিয়েছিলো ট্রাম্পশিবির। কিন্তু, মার্কিন গণমাধ্যমের জোরালো অনুসন্ধানের কারণে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন নি মি. কোহেন। ড্যানিয়েলসের নামে বিবৃতি: ড্যানিয়েলসকে ট্রাম্পের আইনজীবী কোহেন অর্থ দিয়েছেন মর্মে গত ১৮ জানুয়ারি ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে। এর ক’দিন পর, কোহেনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়, যাতে ড্যানিয়েলস বলেছেন ট্রাম্পের সাথে তার যৌনসম্পর্কের খবরটি সত্য নয়। এ বিবৃতির কারণে, ট্রাম্প-পর্নোতারকা যৌনসম্পর্ক ইস্যু প্রায় চুপসে যাচ্ছিল। কিন্তু, এ বিবৃতি তার নয় বলে ড্যানিয়েলসের দাবিতে আবার নড়েচড়ে বসে মার্কিন গণমাধ্যম। তখন ড্যানিয়েল লেছিলেন, ওই বিবৃতিতে যে সই ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি তার নয়।
বোমা ফাটালেন কেইথ মুনিয়ান: লস এঞ্জেলসে ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন মুনিয়ান। ড্যানিয়েলসের দীর্ঘদিনের বন্ধু। ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের আইনজীবীর সাথে করা ‘চুপ-চুক্তি’তে ড্যানিয়েলসের পক্ষে সই করা চারজনের একজন তিনি। কিছুদিন এক বাসায় একসাথে থেকেছেন দু’জন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি বিস্ট’ গত ১২ মার্চ মুনিয়ানের সাথে আলাপের সূত্র ধরে প্রকাশ করে এটি প্রতিবেদন। তাতে উঠে আসে ২০০৬ সালে শুরু হওয়া ট্রাম্প-ড্যানিয়েলস সম্পর্কের বেশ চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্ক শুরু হয় ২০০৬ সালে, ট্রাম্প যখন ততো বিখ্যাত হননি। তিনি সবেমাত্র ট্যাবলয়েড চরিত্র থেকে রিয়েলিটি টিভি তারকা হয়েছেন। তার ফোন পেলে লাউডস্পিকার ব্যবহার করতেন ড্যানিয়েল। ট্রাম্প কল করে অনেকক্ষণ কথা বলতেন। আর অন্যপ্রান্ত কি বলা হচ্ছে সব শুনতে পেতেন মুনিয়ান। ‘লোক অহেতুক ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে পারেন’- বলছিলেন মুনিয়ান। ‘ড্যানিয়েলসকে নিউ ইয়র্কে এপার্টমেন্ট দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। উদ্দেশ্য প্রণয়িনীকে কাছে রাখা। এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার পর তাকে বলা হয় ফ্লোরিডার ট্রাম্পায় ট্রাম্প টাওয়ারের অসমাপ্ত একটি এপার্টমেন্ট নেয়ার জন্য।’ তিনি নেননি। ড্যানিয়েলসকে এমন আরো অনেক প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো বলে জানান মুনিয়াম। প্রেয়সীকে নিজের টিভি শো ‘দ্য এপ্রেন্টিস’ এ জায়গা করে দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মুনিয়ানের ভাষ্য, ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার সীমান্তবর্তী একটি হ্রদ এলাকায় সেলিব্রেটি গলফ টুর্নামেন্টে ২০০৬ সালের সামারে দেখা হয়েছিলো ট্রাম্প আর ড্যানিয়েলসের। সেখানে প্রথম দেখায় হাত ধরাধরি। হোটেলে প্রথম দেখায় ট্রাম্প কিভাবে তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন, সে বর্ণনা দিয়েছিলেন ড্যানিয়েলস, মার্কিন গণমাধ্যমে। তিনি এও বলেছিলেন, বিছানায় সাধারণ মানের মানুষ ট্রাম্প।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে অভিযোগ দায়ের: ড্যানিয়েলসকে অর্থ দেয়ার খবর প্রকাশের পর ‘কমন কজ’ নামে একটি দলনিরপেক্ষ এথিকস গ্রুপ অভিযোগ দায়ের করেছে ফেডারেল ইলেকশন কমিশন বরাবরে। একই ধরণের অভিযোগ জমা দিয়েছে তারা জাস্টিজ ডিপার্টমেন্টেও। ১২ মার্চ গ্রুপটি তাদের অভিযোগে সংশোধনী এনে ফেডারেল নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে প্রেসিডেন্ট ও তার আইনজীবীর বিরুদ্ধে। জাস্টিজ ডিপার্টমেন্টে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ড্যানিয়েলসকে মুখ বন্ধ রাখতে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পশিবির থেকে যে অর্থ দেয়া হয়েছে, সেটি আসলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে এ অর্থ নির্বাচনী কাজের ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু, ট্রাম্প এ অর্থকে তার নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে না দেখিয়ে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ গ্রুপের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট পল এস. রায়ান সংবাদমাধ্যমকে জানান, অর্থ লেনদেনের খবর যদি সত্যি বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে এ অর্থ যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য দেয়া হয়নি সেটি প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে ট্রাম্পশিবিরের জন্য। সমঝোতার প্রস্তাব: ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা বন্ধ হয়ে যায় নি। নানা প্রলোভন দেয়া হচ্ছে তাকে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়তো হয়ে যেতে পারে। এটা নির্ভর করছে কি পাচ্ছেন তিনি সেটার ওপর। ট্রাম্প শিবিরকে এজন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে, অনুমান বিশ্লেষকদের। যুক্তি, নিজের মুখ খুলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছ থেকে যা আয় হতে পারে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যদি এর চেয়ে বেশি আসে, তাহলে চুপ হয়ে যাবেন ড্যানিয়েলস- এমনটাও বলা হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দেয়া ছাড়াও ট্রাম্পের সাথে যৌনসম্পর্ক নিয়ে বই, মূলধারার সিনেমা আর পর্নো সিনেমা বানানো প্রস্তাবও আছে ড্যানিয়েলসের কাছে। নিজে একটি হরর মুভি বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন। বিনিয়োগ খুঁজছেন। সেটি করার অর্থ জোগাড়ে যে কোন অর্থসূত্রে নজর দিতে পারেন ড্যানিয়েল, যার প্রকৃত নাম স্টেফানি গ্রেগরি ক্লিফোর্ড। মাঝে রাজনীতি করার ইচ্ছে জেগেছিলো তার।
নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের দায়: নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের বক্তব্য, এই আশঙ্কায় তাকে অর্থপ্রদানের ঘটনাকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরণের সম্ভাব্য-বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সেই সাথে আইনপ্রণেতাদেরও কেউ কেউ মত দিয়েছেন, অর্থ লেনদেনের ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ফেডারেল আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেসম্যান টেড লিউ মনে করেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ড্যানিয়েলস আর কোহেনের মধ্যে চুক্তি ফেডারেল নির্বাচনী আইনকে লঙ্ঘন করেছে। এর শাস্তি ৫ বছর। লিউনস্কি বনাম ড্যানিয়েলস: মনিকা লিউনস্কিও কথা মনে আছে? হোয়াইট হাউসে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করে একসময় ঘনিষ্ট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে। একসময় সেটা রূপ নেয় যৌনসম্পর্কে। সেসময় এ সম্পর্ক আর ঘটনাপ্রবাহ গড়িয়েছিলো ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া পর্যন্ত। যদিও, পরে ভ্যাগ্যক্রমে খারাপ ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবার কাছ থেকে ফিরতে পেরেছিলেন ক্লিনটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। শুধু স্থান আর কালে ভিন্নতা। ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালিন স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত। আর ট্রাম্পের ঘটনাকাল প্রেসিডেন্ট হবার আগের। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে শপথভঙ্গের, নৈতিক স্খলনের দায় নিতে হয়েছিলো ক্লিনটনকে। যেটি তাকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো। ট্রাম্পের বেলায় সেই একই যুক্তি কাজে আসে না। এ দিক থেকে তিনি খানিক মুক্ত। কিন্তু, সত্য বলার শপথ নিয়ে তিনি যদি পর্নোতারকার সাথে যৌনাচার নিয়ে মিথ্যে বলেছেন বলে প্রমাণা হয়? অন্তত এই একটি ইস্যুতে ট্রাম্পকে ইমপিচ করে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেই সাথে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, প্রেসিডেন্ট যে সব ফ্রন্ট ওপেন করে রেখেছেন!

Recommended For You

Leave a Reply