চট্টগ্রামে কার্গিলিয়ানদের মিলনমেলা: প্রাণের সাথে মিলেছিল প্রাণ ছিল আড্ডা, খেলাধুলা, গান

শোয়ার আগে জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখা। ৫.৩০টায়, ৫.৪০টায়, ৬টায় অ্যালার্ম সেট করা। তবু ঘুমাতে গিয়ে ভয় হয়। ঘুম আসতে চায় না। যদি মিস হয়ে যায়! এই শীতে অনেক সময় সকাল আটটা-নয়টা বাজেও গোসল করতে মন চায় না। কিছু কিছু দিনতো বিনা গোসলে থেকে যাওয়া হয়। অথচ আজ ৬টার দিকে স্বেচ্ছায় গোসল করতে ঢুকে যায়। রেডি হচ্ছি হচ্ছি করে যারা সহজে রেডি হতে পারেনা, আজ তারা কত দ্রুত রেডি হয়ে যায়! কার্গিলয়িানদের প্রাণের উৎসব কার্গিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রী-ছাত্রী পরিষদের বনভোজনই এই উৎসাহ, উদগ্রীবতার কারণ।
থুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে কেউ কেউ এক/দুইদিন আগেই চলে এসেছিলেন ঢাকা থেকে। সুদূর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত প্রবাসীরাও এসেছিলেন প্রিয় স্কুলের প্রাণের উৎসবে। কুয়াশার ভোর ভেঙে কেউ যায় মাতৃভূমিতে, কেউ বা জিইসি তে। মাতৃভূমি থেকে বাসগুলো ছেড়ে জিইসি যায়। সেখানে চলে এক পশলা আড্ডা। সেখান থেকে সবগুলো বাসগুলো একসাথে ছুটে চলে পারকি বিচের উদ্দেশ্যে। বাসে উঠেই উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। ওরে বন্ধুরে আয় কোলাকুলি করিরে, কতদিন দেখিনা তোরে। চলে আড্ডা, গান, খুনসুটি, আর তার ফাঁকে সকালের নাশতা।
বাস থেকে নামার পরপরই পরিষদের সভাপতি জনাব শামসুল মাওলা মণি’র অনুমতি নিয়ে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ সাইফুর রহমান লিংকন বনভোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমে ব্যাচওয়ারী পরিচিতি পর্ব। মাঝে দেয়া হয় জুম্মার বিরতি। সময় বাঁচানোর জন্য বিরতির মাঝে মহিলাদের খাবার পরিবেশন করা হয়। জুম্মার পর পুরুষদের মাঝে খাবার পরিবেশন, তার মধ্যে চলে সাগর শাহেনেওয়াজ, জামাল হোসেন মনজু, মোঃ জাহেদ, নুরুল মোস্তফা খোকনসহ বিভিন্ন শিল্পীর চমৎকার সংগীত পরিবেশনা। অনুষ্ঠান পরিচালকের কি চমৎকার সময় ব্যবস্থাপণা!
মাঝে স্কুলের তিনজন কৃতি ছাত্রকে তাঁদের নিজস্ব সেক্টরে কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। এই তিন কৃতি ছাত্র হলেন জনাব ডাঃ দেলোয়ার, জনাব আবদুল হাই খান, জনাব মোহাম্মাদ শাখাওয়াত হোসাইন নাজিম। ক্রীড়া পর্ব শেষ হতেই শুরু হয় মূল আকর্ষণ কূপনের লটারী পর্ব। এতে বিশেষ প্রথম পুরষ্কার ছিল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল মোস্তফা খোকনের প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড মেকারের সৌজন্যে কক্সবাজারের হোটেল লংবিচে ৪দিন ৩রাত এবং বিশেষ দ্বিতীয় পুরষ্কার ছিল ৩দিন ২রাত অবস্থানের দারুন সুযোগ। এই দুই পুরস্কার জিতেন যথাক্রমে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান লিংকনের ছেলে মোঃ মুশফিকুর রহমান সাজিদ এবং ৯৩ব্যাচের ছাত্র জাকির ইকবাল। এর বাইরে ছিল ৪০টি আকর্ষনীয় পুরস্কার। আর পাঁচ বছরের নিচের সব বাচ্চাদের জন্য ছিল সান্তনা পুরস্কার। কবুক আনন্দ নিয়ে ছলছল চোখে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ ঠিকানায় আবার চলে যেতে হয়।
আবার জমবে প্রাণের মেলা – এই আশা প্রাণে জেগে রয়। কার্গিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় যেন একটি বিশাল একতাবদ্ধ পরিবার। কার্গিলিয়ান মানে অফুরন্ত ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস, খোলা প্রাণের দুয়ার।

আবদুল হালিম নাসির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
কার্গিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ।

Recommended For You