কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট স্পীডবোট নিয়ে ইজারাদার আনোয়ারের নতুন চাল!

চট্টগ্রাম অফিস: ১লা জানুয়ারী ২০১৮ থেকে কুমিরা- গুপ্তছড়া রুটে স্পীড বোটের ভাড়া ২৫০টাকা নির্ধারণ করার পর এখন নতুন সুরে কথা বলছেন এই ঘাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলছেন, স্পীডবোট সন্দ্বীপের মানুষের জন্য তেমন কোন কাজে আসছে না। এখন যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে স্পীডবোটে যাতায়তের জন্য যে সময় লাগে একই সময়ে সার্ভিস বোটে পারাপার করা যাবে।

এতে, যাত্রীদের পারাপারের খরচ অর্ধেকেরও কম হবে। ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘সন্দ্বীপ’ এর সাথে আলাপকালে এমন মতামত দিলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, সন্দ্বীপবাসী সহযোগিতা করলে কম খরচে এবং স্পীড বোটের একই সময়ে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০ জানুয়ারী রাতে আনোয়ার হোসেন গুপ্তছড়া বাজারে তার কার্যালয়ে কথা বলেন সন্দ্বীপ পত্রিকার প্রতিনিধির সাথে। বর্তমানে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে নয়টি স্পীড বোট ও চারটি সার্ভিস বোট চলাচল করে। এছাড়াও মাল পরিবহনের বোটেও বেশ কিছু যাত্রী পারাপার করে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে কুমিরা- গুপ্তছড়া ঘাটে দৈনিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার যাত্রী পারাপার করে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন নয়টি স্পীড বোটে সকাল আটটা থেকে যাত্রী পারাপার শুরু হয়। প্রায় সময় যাত্রী সংখ্যা এত বেশি থাকে যে রীতিমত জট লেগে যায়। একজন যাত্রীকে স্পীডবোটে যাওয়ার জন্য সিরিয়াল দিয়ে ঘন্টারও বেশি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে একদিকে সময়ের যেমন অপচয় হয় তেমনি অর্থেরও অপচয় হয়। অথচ এই সময়ে সার্ভিস বোটে সহজে পারাপার করা যায়। ঘাটে যাত্রীজট বৃদ্ধি পেলে সার্ভিস বোটের প্রচারনা চালিয়েও কোন কাজ হয়না। যাত্রীরা ঠিকই ঘন্টার পর ঘন্টা স্পীডবোটের জন্য অপেক্ষা করেন।

স্পীড বোট যাত্রীদের জন্য যেমন অপচয় তেমনি ঘাট ইজারাদারের জন্য তেমন লাভজনক নয় উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি স্পীডবোট ক্রয় করতে ১৮ থেকে ২০লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু সময় যত যায় ততই এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। এক দুই বছর চালানোর পর ওই স্পীড বোটের বাজার মূল্য নেমে আসে তিন থেকে চার লাখ টাকায়। একজন যাত্রী যদি সার্ভিস বোটে পারাপার করেন তাহলে ওই যাত্রীর খরচ কমে যাবে অর্ধেকেরও বেশি। এখন স্পীড বোটে আড়াইশ টাকা দিতে হয়, সার্ভিস বোটে পারাপার করলে মাত্র একশ টাকায় এটা সম্ভব। সার্ভিস বোটে চলাচল করলে সময় কিভাবে সেভ হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন দৈনিক দুই পার থেকে দুইবার করে মোট চারবার সার্ভিস বোট চলাচল করে। সার্ভিস বোটের ধারন ক্ষমতা দেড়শ জন হলেও যাত্রী পাওয়া যায় মাত্র ২০/৩০জন। যাত্রীরা সার্ভিস বোটে পারাপার করলে প্রয়োজনে প্রতি এক/দেড় ঘন্টায় সািির্ভস বোট ছাড়া হবে। সার্ভিস বোটের যাত্রীদেও কুলে নামানোর জন্য প্রয়োজনে দুইপারে চারটি করে মোট আটটি লালবোট/ছোট নৌকা রাখা যেতে পারে। যাতে মাত্র ১০ থেকে ২০মিনিটের মধ্যে সার্ভিস বোট থেকে কূলে নামতে পারে। সন্দ্বীপের যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দাবি করে আনোয়ার হোসেন বলেন, কুমিরা- গুপ্তছড়া ঘাট বছরের প্র বছর সীতাকুন্ডের মানুষ নিয়ন্ত্রণ করেছে, তখন যাত্রীদের সাথে অমানবিক ব্যবহার করা হতো, অথচ এই ঘাটে চলাচল করে সন্দ্বীপের মানুষরাই। তখন কেউ হয়রানির প্রতিবাদ করার সাহস করতোনা। এখন একটু থেকে একটু হলেই ইজারাদার ও জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয় । যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ভাড়া কমিয়েছি। কোন ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি।

এই ঘাটে জাহাজ চালু করার চেষ্টা করছেন সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ অন্যরা। জাহাজ এলে ভালো হবে। কিন্তু মানুষ এখন অন্য রকম হয়ে গেছে। নামের জন্য হলেও স্পীড বোটে চলাচল করছে। ভালো মন্দ বিবেচনা না করেই শুধু মাত্র স্পীড বোট চলাচল করছে তারা। একই সময়ে কম খরচে যে সার্ভিস বোটে আসা যাওয়া করা যায় সেটা যাত্রীদেও বুঝতে হবে। যাত্রী, সন্দ্বীপের জনপ্রতিনিধি ও অন্য সবার সহযোগিতা পেলে সার্ভিস বোট দিয়ে নির্ভও যাতায়ত ব্যবস্থা চালু করা যাবে বলেও মনে কনে তিনি।

Recommended For You