উরিরচর হাইস্কুল, নাম পাল্টেছে চারবার, ভাগ্য পাল্টায়নি

চট্টগ্রাম অফিস: উরির চরের জনসংখ্যা কত? এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটার আছে সেখানে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ধারণা সন্দ্বীপ ও কোম্পানীগঞ্জের অংশে বাসিন্দার সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি হাইস্কুল আছে। ২০০০ সালের দিকে কার্যক্রম শুরু হওয়া হাইস্কুলটি এখনো পাঠদানের অনুমতি পর্যন্ত পায়নি।

সন্দ্বীপের বিভিন্ন স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের জেএসসি, পিএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পাঠদান অনুমতি ও এমপিওভুক্ত করার জন্য এই পর্যন্ত চারবার এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হয়। তারপরও ভাগ্য খুলেনি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এতদিনেও স্কুল পরিচালনার জন্য সরকারের নিকট কোন অনুদান পাওয়া যায়নি। সরকারি অনুমোদনের জন্য একবার উপজেলা চেয়ারম্যান আবার সংসদ সদস্যের পরামর্শে নাম পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত, আবারো আগে নামে ফিরে যেতে হয়েছে স্কুলটিকে।

মূলত স্কুলের জন্য প্রথম যে জায়গা দেয়া হয়েছিলো সেটি ছিলো সরকার থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া। সরকারি বন্দোবস্তের জায়গায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পরে, খাস জায়গা স্কুলের অনুকূলে বরাদ্দ দেখিয়ে আবার অনুমোদন-আবেদন করা হয়। বর্তমানে এই আবেদন সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের দেয়া বেতন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দশজন শিক্ষক কর্মচারির বেতন চালানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা দিদারুল আলম বীরপ্রতিক মাসে দশ হাজার টাকা করে দেন। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যও তিনি কিছু অনুদান সংগ্রহ করে দিয়েছেন।

স্কুলের শিক্ষার্থী পাঁচশ’র কাছাকাছি। ৬ষ্ট শ্রেণীতে ১৫৬ জন, ৭ম শ্রেণীতে ১৪২ জন, অষ্টম শ্রেণীতে ৯২ জন, নবম শ্রেণীতে ৫১ জন এবং দশম শ্রেণীতে ২০জন। ২০১৬ সালে এ স্কুলের চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করেছে। ২০১৫ সালে ১০ জনের মধ্যে পাস করেছে আটজন। ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৫৪ জনের মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

Recommended For You