আবারো বিতর্কে সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন

সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন অন নর্থ আমেরিকা’র নতুন কমিটিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে এটিএম রানাকে।

সন্দ্বীপ রিপোর্ট: সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার গায়ে বিতর্ক যেনো লেগেই আছে। যুক্তরাষ্ট্রে সন্দ্বীপবাসীর সবচেয়ে পুরনো ও একদা শক্তিশালী এ সংগঠনে গেলো কয়েকমাস ধরে ছিলো নির্বাচন ও দায়িত্ব হস্তান্তর সংকট। এ নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা। থানা পুলিশ।

সে সংকটের আপাত অবসান হলেও এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কমিটির শূণ্য সাতটি পদে নিয়োগ নিয়ে কথা উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই নিয়োগে এমন ব্যক্তিও আছেন, নির্বাচন কমিশন যার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করে বাতিল করার পর তিনি আর এ বিষয়ে আপিল করেননি। একই প্যানেলের অন্য দুই জন আপিল করে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত আবার বিতর্কে করলেও একই প্যানেলের আরো দুই প্রার্থী এ নিয়ে কোন আপিল করেন নি। এর ফলে, এই দু’জনের আর নির্বাচন করার কিংবা সংগঠনের কমিটিতে যে কোন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত হবার কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার প্রবীণ সদস্যদের অনেকেই।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ সংগঠনের নতুন একটি কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছিলো প্রায় দু’বছর ধরে। নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছিলো এজন্য। কিন্তু, সব কিছু ঠিকঠাক মতো না চলার কারণে আবার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে। সেই কমিশনের নির্বাচনী কর্মকা-ও নানা ঘটনাবহুল। সেসময় দেখা গেছে, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা’র দেখভালের জন্যে অনেকে জীবনবাজি রাখলেও নির্বাচনী কর্মকা-ে তারা অংশ নেন নি। এর ফলে, চরম প্রার্থী সংকটের মধ্য দিয়ে একটি জোড়াতালি দেয়া কমিটি গঠিত হয়েছে অনেক রীতি আর নিয়ম লঙ্ঘন করে। ১৭ সদস্যের কমিটিতে মাত্র ১০ জনকে ভোটহীন নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়েছে কমিশনকে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই পাওয়া যায়নি বেশিরভাগ পদে। যে দুই পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাদের একজন সমঝোতার মধ্য দিয়ে প্রার্থিতা তুলে নিয়েছেন। অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যবিভ্রাটের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাদিল করে নির্বাচন কমিশন। তিনি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। তার মনোনয়নপত্র বাতিল করাকে কেন্দ্র করে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। সে পরিস্থিতি কোনভাবে সামাল দেয়া গেলেও নির্বাচন কমিশন আবার নতুন কমিটির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে কমিটির শূণ্যপদে নেতা নির্বাচন নিয়ে। এ নিয়ে আদালতে মামলা। শেষপর্যন্ত সমঝোতায় নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়।
দায়িত্ব পাবার পর শূণ্যপদে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে তারা। আর তখনই সামনে চলে আসে নৈতিকতা আর গঠনতন্ত্রের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এই কমিটিরই একজন সহ সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ। তারা নির্বাচন কমিশনকে শ্রদ্ধা করেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া, সাংগঠনিক পদ্ধতি এবং সর্বোপরি সামাজিকতার প্রতি আস্থাশীল থেকেছেন। সর্বোপরি, তারা একটি সিস্টেমকে সম্মান করেছেন। যারা এ সিস্টেমকে সম্মান দেখান নি, যারা সে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা কিংবা নেতা হবার যোগ্যতাকে প্রশ্নাতীত করতে পারেন নি, তাদের সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের মতো একটি প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়ার কাজটি নতুন কমিটির জন্য অবশ্যই সংগঠনের গঠনতন্ত্রপন্থী নয় বলে মনে করেন অনেকেই। তাছাড়া, এ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এজন ব্যক্তির জন্য নেয়া হয়েছে। প্রার্থিতা বাদ যাওয়া আরেকজনকে কিন্তু এ কমিটিতে রাখা হয়নি। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের নতুন কমিটিতে সভাপতিসহ একটি প্যানেলের ৯ জনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছিলো নির্বাচন কমিশন। সাধারণ সম্পাদকের পদে একক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক সভাপতির বিরোধী পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত।
সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের মধ্যে, নির্বাচন কমিশন প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবুল কাসেমের ছায়ায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাইফুল ইসলাম শওকত (বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক)। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি কাদের মিয়ার অনুসারী আশ্রাফ উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। কমিটিতে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত এটিএম রানা কাদের মিয়ার সহযোগী হিসেবে পরিচিত। নতুন কমিটির সভাপতি আশ্রাফ উদ্দিন বলেছেন, তারা নতুন সদস্য নির্বাচন নিয়ে যা করেছেন, সেটি গঠনতন্ত্রের ভেতরে থেকেই করেছেন। প্রবীণ এ কমিউিনিটি নেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ব্যক্তিবিশেষের তল্পিবাহক সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে যে কথা উঠেছে, তা তিনি কিভাবে দেখছেন। আশ্রাফ উদ্দিন বলেন, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন কারো পকেট সংগঠন কখনো ছিলো না, কখনো হবেও না। তিনি বলেন, আমরা সঠিক পথে আছি। সাধারণ সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে আছি। তার মতে, কমিটি মাত্র দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কার পক্ষে আছি আমরা, কিংবা কার বিপক্ষে, কি করছি- এসবের এতো চুলচেড়া বিশ্লেষণের সুযোগ আসে নি।

Recommended For You