আকায়েদকাণ্ড সন্দ্বীপে উদ্বেগ, নিউ ইয়র্কে?

মোহাম্মদ ওমর ফয়সাল (চট্টগ্রাম অফিস): সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের পন্ডিতের হাটের পাশে হায়াত মোহাম্মদের বাড়ী। বাড়ীটি এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে ভুটান তালুকদারের বাড়ী হিসেবেও। এই বাড়ীর এক সন্তান মোহাম্মদ আকায়েদ উল্যা যুক্তরাস্ট্রে অন্যতম প্রধান নগরী নগরী নিউইয়র্কের পাতাল পথে আত্মঘাতি বোমা হামলার চেষ্টা চালিয়ে এখন সেই দেশের পুলিশের হাতে বন্দি। আত্মঘাতি হামলা চালালেও কোন প্রাণহানি ঘটেনি। আকায়েদসহ মোট তিনজন আহত হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন গেছে এই বাড়ীর বাসিন্দাদের। ইতোমধ্যে পুলিশ এই বাড়ীর কয়েকজন বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আকায়েদের মতো বাড়ীর আরো কিছু সদস্য বসবাস করছে যুক্তরাষ্ট্রে। জঙ্গি কানেকশানের খোঁজ নিতে তাদেরকেও সেখানে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সব মিলিয়ে এমন উদ্বেগ আর আতংক জীবনে কখনো ভাবতে পারেনি হায়াত মোহাম্মদের বাড়ীর বাসিন্দারা।
আকায়েদের চাচাতো ভাই আহমদ উল্যা সোহরাব জানিয়েছেন, ভাবতেও পারিনি কোনদিন এই রকম একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে। পুলিশ আকায়েদের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছে, কিন্তু সে তো এখানে থাকেনা। বড় হয়েছে ঢাকায়। ৫/৬ বছর আগে চলে গেছে নিউইয়র্কে, তার মামাদের সহায়তায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। দুই বছর আগে তারা এখানে এসে ছয় সাতদিনের মত থেকে গেছে। এর বাইরে তাদের সাথে আমাদের আর তেমন যোগাযোগ নেই।
সোহরাব আরো জানান, আমি ১৭বছর কুয়েত ছিলাম, দেশে এসে এনাম নাহার মোড়ে ব্যবসা করছি। নিউইয়র্কে ঘটনার দিন আমি চট্টগ্রাম শহরের হালিশহরে ছিলাম, ওসি সাহেব ফোন করে আমাকে বললেন কথা আছে, তাড়াতাড়ি সন্দ্বীপ এসে যেন ওনার সাথে কথা বলি। পুলিশকে তাদের সম্পর্কে যা জানি সেসব বলেছি। তার রাজনৈতিক জীবন কিংবা অন্য কিছু সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই।
সোহরাব উদ্বেগের সাথে বলেন আমার নিজের দুইবোনসহ আরো অনেক আত্মীয় স্বজন নিউইয়র্কে থাকে, সেখানকার ঘটনায় আমাদেরকে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদেরকেও নিশ্চয় সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদেশে তারা কিভাবে সেসব মোকাবেলা করবে তা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।
আকায়েদের আরেক নিকটাত্মীয় গাছুয়া ইউনিয়নের তৈছান কোম্পানীকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এই ব্যাপারে তার কিছু জানা আছে কিনা।
তৈছান কোম্পানী “সন্দ্বীপ” পত্রিকাকে বলেন, পুলিশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে দিয়ে আমাকে খবর দিয়েছে থানায় আসার জন্য। আমি এসেছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানার ওসি ও চট্টগ্রাম থেকে আসা বড় অফিসাররা আমার সাথে কথা বলেছন। তাদেরকে আমি যা জানি সব বলেছি। আকায়েদের পরিবার ঢাকা থাকে, সেখান থেকে তারা নিউইয়র্ক চলে গেছে। ঢাকায় এই ছেলে কার সাথে চলাফেরা করতো তাও আমার জানা নেই।
১৩ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ থানায় যখন এই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিলো তখনই জানাজানি হয় ঢাকায় আকায়িদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই ও তার বাবা-মাকে পুলিশ তাদের হাজারীবাগের বাসা থেকে নিয়ে গেছে। অবশ্য ওই দিন রাতেই সন্দ্বীপের এই দুইজন ও ঢাকায় আটক হওয়া জুঁইও তারা বাবা-মাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এই হামলায় শুধু মাত্র আকায়েদ জড়িত থাকলেও তার পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিরা স্বাভাবিকভাবে আইন- শৃংখলা বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় থাকবে। আকায়েদের নানার বাড়ীর অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। যাদের সুবাধে আকায়েদরাসহ সন্দ্বীপের অনেক মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এই দেশটিতে জীবন যাপনের সুযোগ পেয়েছে। পুরো সন্দ্বীপের আর্থ-সামাজিক স্থিতিশিলতা অনেকটা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের উপর। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাসিদের ব্যাপারে বর্তমান রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্ষণশীল নীতির কারণে অন্য অনেকের সাথে বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েক হাজার সন্দ্বীপবাসী দূশ্চিন্তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। আকায়েদের এই ঘটনার পর পুরো সন্দ্বীপের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও কেউ অপরাধের সাথে জড়িত না থাকলে তাকে হয়রানির নজির তেমন একটা নেই যুক্তরাষ্ট্রে। এরপরও, যেহেতু একটি কমিউনিটির একজন সদস্য অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাহলে একই কমিউনিটির অন্য সদস্যরা এখন বাড়তি নজরদারিতে থাকতে পারে। এমন আশংকা খুবই স্বাভাবিক।

Recommended For You